নন্দীগ্রামে বাড়ির ছাদে ঝুলছে কমলা

মোঃ ফিরোজ কামাল ফারুক; বগুড়া :প্লাস্টিকের বড় ড্রাম কেটে দুই ভাগ করে বাড়ির ছাদে লাগানো হয়েছে ৩১ প্রজাতির ফলদ ও ফুল গাছ। সেই গাছে ধরেছে কমলা, মাল্টা, বরই, লেবুসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল। এ ছাড়া রয়েছে সবজি ও ফুলের গাছও। এমন চিত্র চোখে পড়লো বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দোহার গ্রামে স্কুল শিক্ষক আল-ফারুকের বাড়ির ছাদে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার চাপিলাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন আল-ফারুক। ২০১৮ সালের শেষের দিকে তিনি বাড়ির ছাদে ফলদ, সবজি ও ফুলের গাছ লাগান। ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের ছাদে ফলদ বাগান গড়ে তোলা হয়। সেখানে ৩১ প্রজাতির ফলদ, সবজি ও ফুল গাছ আছে। বাগানের মধ্যে এক গাছেই ঝুলছে ১০০ টি হলুদ রঙের পাকা (চায়না জাতের) কমলা। আরও ঝুলে আছে বরই, লেবু, মাল্টা, জাম্বুরাসহ নানা প্রজাতির ফল। এ ছাড়া ফুলের মধ্যে রয়েছে গোলাপ, রজনিগন্ধা, গন্ধরাজ, গাঁদাসহ বিভিন্ন ফুল। সবজির মধ্যে করলা, শিম, বরবটি দেখা গেল। গত দুই বছরে তাঁর ছাঁদ বাগান এখন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে। এই ছাদবাগান দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন।

সহকারী শিক্ষক আল-ফারুক বলেন, গাছের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ফলদ বাগান করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে দোআঁশ মাটি ও গোবর পচিয়ে জৈব সার তৈরি করে এসব গাছ তিনি লাগাতে থাকেন। ‘বাজারে ফল ও সবজিতে রাসায়নিক কেমিক্যাল ও ফরমালিন থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই ফলদ গাছ লাগানোর ব্যাপারে আমি উদ্যোগ নিই।’ ইচ্ছে থাকলে যে কেউ ছাদে বাগান তৈরি করতে পারেন। এতে সহজেই সবুজ প্রকৃতি, বিশুদ্ধ অক্সিজেন ও কীটনাশকমুক্ত টাটকা ফল ও সবজি পাওয়া যায়। নিয়মিত গাছে পানি দেওয়া এবং প্রাকৃতিক জৈব সার মিশিয়ে মাটি দেওয়া হয়। গাছে এখনো ওষুধের প্রয়োজন হয়নি।
এদিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের টাকুরাই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক ২০১৭ সালে নিজ গ্রামে ৫৪ শতক জমির উপর গড়ে তোলেন তার মাল্টা বাগান। তার বাগানে পাকিস্থানী জাতের ২১৫ টি মাল্টা গাছ লাগানো হয়েছে। ওই একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে রয়েছে থাই পিয়ারা, থাই লেবু, আম গাছ, কমলা, লিচু গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে সবুজ বর্ণের মাল্টা ও কমলা।
জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আদনান বাবু বলেন, ছাদে সবজি চাষ করে সবাই সবজির চাহিদা মেটাতে পারেন। অনেকেই ফুলফলের পাশাপাশি রীতিমতো ফলজ গাছসহ শাকসবজি চাষ করছেন। এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here