দৃষ্টিহীন লাবনীর আকুতি, আমি কি দেখতে পারবো না?

রংপুর  প্রতিনিধিঃসমাজের আরও দশজনের ন্যায় এ সুন্দর পৃথিবীর দৃশ্য দেখতে চায় লাবনী।  তার চতুপার্শে যাদের বসবাস, যারা তার সঙ্গে চলেন কিংবা কথা বলেন, তাদেরকে দেখার বাসনা তার।  আয়নায় নিজের চেহারাটাও অবলোকন করতে চায়।  কিন্তু পারছে না।  জীবনের এক পর্যায়ের অসুস্থতায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে লাবনীর কাছে পুরো পৃথিবী যেন আন্ধকার।  সকলের কাছে ওর একটাই প্রশ্ন আমি কি আমার দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাবনা? নাকি এ ভাবেই চলে যেতে হবে এ পৃথিবী ছেড়ে?

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বড়ফলিয়া গ্রামের এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি সাক্ষাৎ মেলে দৃষ্টিহীন এ কিশোরী লাবনীর সঙ্গে।  আলোচনার এক পর্যায়ে জানালো জীবনের করুণ কাহিনী।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পীরগঞ্জের খালাশপীরের পাশ্ববর্তী প্রত্যন্ত বড়ফলিয়া গ্রামের দিনমজুর লাল মিয়ার কন্যা লাবনী খাতুন।  সুন্দরী ও চঞ্চল এক শিশু কন্যা।  পিতা-মাতা, পরিবারসহ গ্রামবাসীর কাছেও বেশ আদরের।  তখন বয়স ৭ বছর।  স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী।  সে সময় আক্রান্ত হয় পক্স রোগে।  শরীরের বিভিন্ন অংশসহ দু’ চোখও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

দরিদ্র পিতা গ্রামবাসীর সহযোগীতায় ওর অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন।  চিকিৎসার এক পর্যায়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে লাবনী।  এর পরে কেটে গেছে ৮টি বছর।  দরিদ্র পিতা এ দীর্ঘ সময়ে অনেক চেষ্টা করেও অর্থাভাবে লাবনীর আর কোন উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি।  লাবনীর বয়স এখন ১৫।  বিগত ৮ বছর ধরে লাবনীর দৃষ্টিতে সবই অন্ধকার।  ওর জীবনটাও অনুরুপ।

কথা বলার সময় সে শুধুই কাঁদছিল আর আকুতি করে বলছিল ভাই, আমি কি কাউকে দেখতে পাবনা? আমি সবাইকে দেখতে চাই, সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাই।

লাবনীর পিতা লাল মিয়া জানান, তিনি দিনমজুর।  তার যেটুকু ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা করেছেন। বর্তমান তিনি নি:শ্ব।  এ জন্য সে সরকার প্রধানসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here