২০২০ সাল যেমন কাটিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর

মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম:চট্টগ্রাম বন্দরের ২০২০ সালটি শুরু হয় বন্দর চেয়ারম্যানের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে। আর বছরটি শেষ হয় মাতারবাড়ী গভীর সমু্দ্রবন্দরের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে প্রথম জাহাজ নোঙর করার মাধ্যমে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বিশেষ মাইলফলক’।  যেখানে করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক স্থবির হয়েছিল, সেখানে করোনার সাধারণ ছুটির মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা চালু ছিল বন্দর। দেশের চলমান আমদানি-রপ্তানির গতি সচল রাখতে চালু রাখতে হয়েছে বন্দরকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আর করোনায় বন্দর হারিয়েছে ১৪ কর্মকর্তাকে। তবু থেমেনি বন্দর, বিশ্বের ব্যস্ততম কন্টেইনার পরিবহনে শীর্ষ এমন ১০০ বন্দরের তালিকায় ৫৮তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের পুরস্কার

চট্টগ্রাম বন্দরের ২০২০ সালের বছরটি শুরু হয়েছিল  বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ নৌপরিবহন  মন্ত্রণালয়ের শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে। ডিজিটাল অনলাইন বার্থিং মনিটরিং সিস্টেমে বিদেশ থেকে বহির্নোঙরে জাহাজ আসার পর মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানাবে। এরপর ফিরতি এসএমএসে কখন, কোন বার্থে জাহাজটি ভিড়বে, বন্দরের পাইলট কখন জাহাজে উঠবে ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন। এর ফলে বার্থিং মিটিংয়ের আর প্রয়োজন হবে না। এ সিস্টেমের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।

ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এনসিটি, সিসিটি, জিসিবিসহ জেটি ও ইয়ার্ডের শতভাগ ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় এনেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস) কমপ্লায়েন্সের জন্য বন্দরের শতভাগ এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা বাধ্যতামূলক।  এছাড়া সিসিটিভি আওতায় আসায় জেটির মধ্যে বেশ কয়েকটি চুরির অপচেষ্টা ধরা পড়েছে। শুধু কনটেইনার, ইয়া র্ড, শেড, জাহাজ থেকে পণ্য চুরি বন্ধ নয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করে সামগ্রিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বন্দরের। চট্টগ্রাম বন্দরের চার নম্বর গেটের  নিরাপত্তা বিভাগের দফতরের ‘চিটাগাং পোর্ট সিসিটিভি কমান্ড অ্যান্ড কনট্রোল সেন্টার’থেকে পুরো বন্দরের সব সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং করা হয়।

স্ক্যানার মেশিন

রাজস্ব ফাঁকি এবং চোরাচালান বন্ধে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন গেইটে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিন।  বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) তিন নম্বর গেইটে এবং জেনারেল কার্গো বাথের এক নম্বর গেইটে স্ক্যানার দুটি স্থাপন করা হয়েছে। স্ক্যানার দুটি ফিক্সড কন্টেইনার স্ক্যানার। চট্টগ্রাম বন্দরে এর আগে তিনটি ফিক্সড কন্টেইনার স্ক্যানার ও দুটি মোবাইল স্ক্যানার ছিল। এ নিয়ে মোট স্ক্যানারের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়াল।

ট্রান্সশিপমেন্ট

চলতি বছরে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার মাধ্যমে  শুরু হয়েছে ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে মালামাল নিয়ে যাওয়া। ভারতীয় পণ্য নিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি সেজুঁতি’কলকাতার হলদিয়ার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর থেকে প্রথম চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল।নিয়ম অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য চার্জ আদায় করে।  চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজের মালামালগুলো কুমিল্লার বিবিরবাজার অথবা আখাউড়ার সড়কপথ দিয়ে ভারতের আগরতলায় যায়।

বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় ৫৮ তম চট্টগ্রাম বন্দর

চলতি বছরে দেশের এই প্রধান সমুদ্রবন্দর বিশ্বের কন্টেইনার পরিবহনকারী বন্দরের মধ্যে আরো ছয় ধাপ এগিয়েছে। বিশ্বের ব্যস্ততম কন্টেইনার পরিবহনে শীর্ষ এমন ১০০ বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এখন ৫৮তম স্থানে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ১০ বছরে ৩০ ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। সমুদ্রপথে মোট কন্টেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এই বন্দরে যত পণ্য পরিবহন হয় তার ২৭ ভাগ পরিবহন হয় কন্টেইনারের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ি বন্দরের কাজ শেষ হলে কন্টেইনার পরিবহন আরো বাড়বে। তখন লয়েড লিস্টে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান আরও অগ্রগতি হবে।

দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের যাত্রা

দীর্ঘ এক দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২৩ জুন আমদানি-রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেয় বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি সারেরা’। এক দশক আগে এইচআরসি, কিউসি, বিএসসির কন্টেইনার জাহাজ ছিলো বাংলাদেশি পতাকাবাহী। এর পর বিদেশি জাহাজই কন্টেইনার পরিবহন করে আসছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্রুপ ‘এমভি সারেরা’ ও ‘এমভি সাহারে’ নামের দুইটি জাহাজ কিনে বাংলাদেশি পতাকায় পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। যা মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডের একটি মাইলফলক। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হলো এবং সাশ্রয় হলো অনেক বৈদেশিক মুদ্রাও।

নতুন চেয়ারম্যানের যোগদান

১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ৪০তম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন রিয়ার অ্যাডমিরাল শেখ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।  তিনি এর আগে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি ১৯৬৭ সালের ৩০ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ ওসমান গনি এবং মাতা মিসেস খোদেজা বেগম। তিনি ১৯৮৫ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। রিয়ার এডমিরাল আবুল কালাম আজাদ দেশে এবং বিদেশে পেশাগত কাজে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

জলদস্যুমুক্ত চট্টগ্রাম বন্দর

নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি তদারকি বাড়ানোতে গত তিন বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বহির্নোঙরকেন্দ্রিক বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে চুরি ও জলদস্যুতা একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। কয়েক বছর আগেও বিদেশি জাহাজ মালিকদের কাছে চট্টগ্রাম বন্দর ছিল আতঙ্কের নাম। বহির্নোঙর থেকে শুরু করে বন্দরের জেটিতে ঢোকা পর্যন্ত জাহাজের ক্যাপ্টেন ক্রুদের থাকতে হতো জলদস্যু আতঙ্কে। সে সঙ্গে প্রকাশ্যে জাহাজে উঠে রশিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরির ঘটনা তো ছিলই। কিন্তু ২০১৭ সালের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা রিক্যাপের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে এ হার শূন্যের কোঠায়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরভিত্তিক সমুদ্র বাণিজ্য এখন নিরাপদে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিশ্বে স্থান পেয়েছে।

করোনার থাবা বন্দরে

দেশের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে করোনা খুব শক্তভাবে থাবা বসিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে চারশ’ এর বেশি কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। করোনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সচিব আবদুল মান্নান, সাবেক সিবিএ নেতা ফখরুল আলম, বন্দরের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাসহ ১৪ জন মৃত্যু বরণ করেছে।

করোনার সাধারণ ছুটির মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা চালু ছিল বন্দর। দেশের চলমান আমদানি-রপ্তানির গতি সচল রাখতে চালু রাখতে হয়েছে বন্দরকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান

শুধু করোনা নয়, চট্টগ্রাম বন্দর করোনার পাশাপাশি দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করেছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমে এলার্ট থ্রি এবং পরে এলার্ট ফোর জারি করে। খালি করা হয় জেটি। জাহাজ পাটিয়ে দেয় গভীর সমুদ্রে।

বন্দরের সব গুদামও বন্ধ করে দেয়া হয়। অপারেশনাল কাজও বন্ধ থাকে এ সময়। গ্যান্ট্রিক্রেনসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতিও নিরাপদে রাখা হয়। তবে কর্মকর্তারা স্ট্যান্ডবাই কর্মস্থলে অবস্থান করেন। চট্টগ্রাম বন্দর এই ঘূর্ণিঝড় দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করায় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাই।

ভূমি উচ্ছেদ

২০২০ সালের জানুয়াতি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম বন্দর ৪৭ একর জায়গা দখলমুক্ত করেছে।

বছরের শুরু দিকে ২০ জানুয়ারিতে  হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে কর্ণফুলীর তীরবর্তী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম বন্দরের ১০ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা কর্ণফুলী তীর, সল্টগোলা, হালিশহর ও পানামা ট্রাক স্টেশনে অভিযান চালায়। এরমধ্যে পতেঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর দখল করে নৌকা তৈরির কাজ করছিল একটি মহল। এখানে উচ্ছেদ করে ৪ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। সল্টগোলায় ১ একর ও বন্দরের নতুন মার্কেট এলাকায় পানামা ট্রাক টার্মিনাল গত ১৬সাল থেকে দখল করেছিল। এটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এখানেও ৪ একর ভূমি দখলমুক্ত হলো। এছাড়া মধ্য হালিশহরে ১ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি নগরীর বড়পোল চৌরাস্তা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ একর জায়গা দখলমুক্ত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ সময় প্রায় ১৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

২২ জুলাই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার লালদিয়ার চরে উচ্ছেদ অভিযানে ১৫ একর জায়গা দখলমুক্ত হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের।

২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কর্ণফুলীর উত্তর পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ১০ একর ভূমি উদ্ধার করে। উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ২০০টি স্থাপনা।

২২ সেপ্টেম্বর বন্দর উত্তর আবাসিক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ৩০০ অবৈধ দোকানপাট, স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এতে ৩ একর জায়গা দখলমুক্ত হয়।

৭ অক্টোবর পতেঙ্গার ১২ নম্বর থেকে বিমানবন্দর মোড় পর্যন্ত (এক কিলোমিটার) চট্টগ্রাম বন্দরের ২ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়।

২ নভেম্বর নিউমুরিং তক্তারপুল এলাকার এমপিবি গেইট থেকে নেভি গেইট পর্যন্ত ১৫০টি দোকান গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের  এক একর জমি দখলমুক্ত করা হয়।

৮ ডিসেম্বর নগরীর বড়পোল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুই একর জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর

সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া এ বন্দরে এক দিনের জন্য কার্গো-কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বন্ধ থাকেনি। এমনকি করোনার প্রথম ধাপে যখন লকডাউন দেওয়া হয়েছিল সারা দেশে তখনো চট্টগ্রাম বন্দর পুরোদমে চালু ছিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাকআপ টিম করা হয়েছে, যাতে একটি দলে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ও বাকিদের আইসোলেশনে রাখা হয়। এর ফলে বন্দর ২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন সচল থাকবে।

চালু রাখা হয়েছে বন্দরের সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ বুথ, ২৫ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার ও ২৫ শয্যার করোনা ওয়ার্ড। এছাড়া দেশি-বিদেশি জাহাজ ও ইমিগ্রেশন পয়েন্টে নাবিকদের স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মাতারবাড়ীতে ভিড়লো প্রথম জাহাজ ‘ভেনাস ট্রাইয়াম্প’

২৯ ডিসেম্বর মাতারবাড়ী প্রকল্প কাজের জন্য ৩১৩ প্যাকেজে ৭৩৬ টন স্টিল স্ট্রাকটার নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ভেনাস ট্রাইয়াম্প’ নোঙর করে। জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব দুইজন সিনিয়র পাইলটের নেতৃত্বে টাগবোট ‘কাণ্ডারী-৮’ এর সহায়তায় মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে আনা হয়। এই জাহাজটি জেটিতে আসায় বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বিশেষ মাইলফলক’।

আর চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা উপকূলের উত্তরে মীরসরাই থেকে দক্ষিণে মহেশখালি-কুতুবদিয়া পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য পোর্ট অব কল ধরা হবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। জাহাজ ভেড়া থেকে মাসুল আদায় পর্যন্ত সব কিছুই করবে চট্টগ্রাম বন্দর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here