বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা কি জায়েজ?

ধর্ম ডেস্ক:ইসলামের পরিভাষায়, গোসল হল সমস্ত দেহ ধৌত করার মাধ্যমে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা। তবে পবিত্রতার পাশাপাশি গোসল করা স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক। আধুনিক যুগে এসে অনেকেই নিজের বাথরুমে দেহের সমস্ত পোশাক ছেড়ে গোছল করতে পছন্দ করেন। গোসলের এমন পন্থাটি অনেকের কাছে নাজায়েজ। তবে ইসলামী বিধানে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করাকে কি ভাবে দেখে?

যদি অন্য কারো দেখার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে পাকা গোসল খানায় বা বাথরুমে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা আপেক্ষিক অর্থে জায়েজ হিসেবেই ইসলামে গণ্য হয়। তবে প্রয়োজন ছাড়া এভাবে গোসল করা একেবারেই অনুচিত। এটা একেবারে অনুত্তম কাজ, সুন্নতের পরিপন্থী। উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েজ আছে তবে আল্লাহর রাসূল (সা.) কখনো এরকম করেননি। উত্তম হলো লুঙ্গি ইত্যাদি বেঁধে গোসল করা ও মেয়েরা নিচে পায়জামা বা ওড়না সাদৃশ্য ও বুকে গামছা সাদৃশ্য কিছু রেখে গোসল শেষ করা।

আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ লজ্জাশীল ও পর্দাকারীদের পছন্দ করেন। তাই তোমাদের কেউ যখন গোসল করে তখন সে যেন পর্দা করে নেয়। (তাহতাবী)

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাস্থান সর্বদা হেফাজত করো (অর্থাৎ ঢেকে রাখো)।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও একাকী থাকে! (তখনো কী তা ঢেকে রাখতে হবে?)।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কেননা আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৬৯)

গোছলের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘‘আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে,কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।’’ [সূরা নিসা-৪৩]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here