ক্লিওপেট্রা ও সিজারের সন্তান ‘সিজারিওন’ এর শেষ পরিণতি

নিউজ ডেস্কঃমিসরীয় সভ্যতা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। পিরামিড, মমির মতো ক্লিওপেট্রাও বছরের পর বছর ধরে এই সভ্যতার কিংবদন্তী হয়ে ওঠেছে। ফারাও রাজবংশের সর্বশেণ রানি ক্লিওপেট্রা।

 

ক্লিওপেট্রার প্রেম নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক গল্প-অনেক কাহিনীর অবতারণা হয়েছে। গল্প-কবিতা-উপন্যাসের পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রও। এমনকি মহান সাহিত্যিক শেকসপিয়র পর্যন্ত তার নাটকে অমর করে রেখেছেন রানী ক্লিওপেট্রার প্রেমকাহিনীকে। তিনি লিখেছেন অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রা। অন্যদিকে জর্জ বানার্ড শ লিখেছেন সিজার-ক্লিওপেট্রা।

ক্লিওপেট্রা ও জুলিয়াস সিজারের ভালোবাসায় জন্ম নেয় এক পুত্র। যার নাম রাখা হয় সিজারিওন। তার গ্রীক নাম সিজারওন বা ছোট্ট সিজার। অল্প সময়ের জন্যই সে রাজত্ব করেছিলেন। তিন বছর বয়সে মিশরের রাজা হিসেবে সিংহাসনে উপবিষ্ট হন।

ক্লিওপেট্রা তখন রোমে

ক্লিওপেট্রা তখন রোমে

সিজারের সিংহাসনে আরোহনের বেশ কয়েক মাস আগেই তার অভিযুক্ত বাবা জুলিয়াস সিজারকে হত্যা করা হয়েছিল। তার মা, রানি সপ্তম ক্লিওপেট্রা মিশরের রানি হিসাবে স্বীয় ক্ষমতা দৃঢ় করার জন্যই তাকে সিংহাসনে বসিয়েছিলেন

খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সালে ক্লিওপেট্রার আত্মহত্যার পরপরই টলেমিকে হত্যার মধ্যে দিয়েই তার শাসনামল শেষ হয়। মাতা এবং পুত্রের এহেন মৃত্যুর ফলেই টলেমিক শাসনের অবসান ঘটেছিল, তারা গ্রেট আলেকজান্ডারের সময় থেকেই মিশরকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল।

 

রানি ক্লিওপেট্রা

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নারী শাসক ক্লিওপেট্রা। তার জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে প্রাচীন মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৫১ অব্দে রোম সম্রাট টলেমি অলেতিস মারা যাওয়ার সময় তার বিশাল সাম্রাজ্য ১৮ বছর বয়সী কন্যা ক্লিওপেট্রা ও ১৮ বছর বয়সী পুত্র টলেমি-১৩-কে উইল করে দিয়ে যান।

ক্লিওপেট্রা

ক্লিওপেট্রা

তখনকার মিসরীয় আইন অনুসারে, দ্বৈত শাসনের নিয়মে রানি ক্লিওপেট্রার একজন নিজস্ব সঙ্গী থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কাজেই ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করতে হয় তারই ছোটভাই টলেমি-১৩ কে। তখন টলেমির বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। ফলে আইনগতভাবে রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পিত হলো ক্লিওপেট্রা এবং তার স্বামী ১২ বছর বয়সী ছোট ভাই ত্রয়োদশ টলেমি এর উপর।

 

ক্ষমতায় আরোহণের পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও ক্লিওপেট্রা তার শাসন চালিয়ে গেলেন। এরই মধ্যে ৪৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে ফারসালুসের যুদ্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাপতি পম্পে পরাজিত হলেন। সে বছরই আলেকজান্দ্রিয়ায় ফেরার পথে ফারসালুসের হাতে নিহত হন। যুদ্ধ থেকে পালাতে গিয়ে ক্লিওপেট্রার স্বামী ও ভাই টলেমি-১৩ মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর ক্লিওপেট্রা হয়ে ওঠেন মিসরের একচ্ছত্র রানি।

ক্লিওপেট্টা তখন রোমে

খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ এর শেষে ক্লিওপেট্রা সিজারের আমন্ত্রণে রোমে যান। তার সঙ্গে সিজারিয়ান এবং দরবারের সব সভাসদেরাও নিয়ে গিয়েছিলেন। প্লুটার্ক লিখেছিলেন, সিজার ক্লিওপেট্রাকে উচ্চ পদবি এবং বহুমূল্য উপহার না দিয়ে আলেকজান্দ্রিয়ায় ফিরে আসতে দেবেন না।

ক্লিওপেট্রা

ক্লিওপেট্রা

এমনকি তার ঔরসজাত যে পুত্রসন্তান তাকেও নিজপুত্রের সম্মানে ভূষিত করলেন। শহরতলির এক ভিলা  হোর্তি সিজারিস-এ ক্লিওপেট্রা এবং তার পরিবারকেস্বাগত জানিয়ে সিজার তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানালেন।

অনেক রোমান নাগরিকই সেসময় মন্তব্য করেছিলেন, শিশুটি দেখতে অবিকল জুলিয়াস সিজারেরই মতো। সিজারের সেনা আধিকারীক মার্ক অ্যান্টনি অন্যান্য পারিষদদের বলেছিলেন যে সিজার তার নিকটতম বন্ধুদের কাছে স্বীকার করেছেন যে সিজারিয়ান সত্যিই তার পুত্র।

যদি ক্লিওপেট্রার দাবি বিশ্বাস করা হয়, তবে সিজারিয়ান হলেন সিজারের একমাত্র জীবিত শিশু। পম্পেইয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ তার কন্যা জুলিয়া খ্রিস্টপূর্ব ৫৪ সালে সন্তান প্রসবকালে মারা যান।

এর পরের পর্বে থাকছে ক্লিওপেট্রা ও জুলিয়াস সিজারের সন্তান সিজারিয়ানের শেষ পরিণতির কাহিনী। শেষ পর্বটি পড়ার জন্য ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here