এএসপি আনিসুল হত্যা: ফার্মাসিস্টসহ দুজনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃরাজধানীর মাইন্ড এইড হাসপাতালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল হত্যা মামলায় হাসপাতলটির ফার্মাসিস্টিসহ আরও ২ জন দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রিমান্ড চলাকালে ফার্মাসিস্ট তানভীর ও মাইন্ড এইড হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় তানিফ মোল্লা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার (অপারেশন) ফারুক মোল্লা তাদের আদালতে হাজির করেন এবং আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

এর প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের করাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে এএসপি হত্যা মামলায় মোট ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে গতকাল সোমবার হাসপাতালটির মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় ও ওয়ার্ড বয় সজীব চৌধুরী এবং ১৫ নভেম্বর কিচেন সেফ মাসুদ খান এবং ওয়ার্ড বয় অসীম চন্দ্র পাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

গত ১০ নভেম্বর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া ৬ আসামিসহ ১০ জনের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া ১৫ নভেম্বর হাসপাতালটির পরিচালক ফাতেমা খাতুনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলায় গ্রেফতার হওয়া মাইন্ড এইডের আরেক পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, মঙ্গলবার এ ঘটনায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে এদিন দুপুরে তাকে গ্রফতার করে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদ আমিন এখনও পলাতক।

জানা যায়, পারিবারিক ঝামেলার কারণে আনিসুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ৯ নভেম্বর দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই কর্মচারীদের ধস্তাধস্তি ও মারধরে তার মৃত্যু হয বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় আনিসুলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাইজুদ্দীন আহম্মেদ বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আনিসুল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ণ ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সে ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। আনিসুল করিম সবশেষ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here