হাটহাজারীতে মাদরাসায় দুর্নীতি-অনিয়ম অভিযোগে শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

 

মোঃ আবদুল আউয়াল রোকন চট্রগ্রাম:
হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজারস্থ লালিয়ারহাটে অবস্থিত হামিদিয়া হোসাইনিয়া রাজ্জাকিয়া দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচার, আর্থিক দুর্নীতি ও এমপিও জালিয়াতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষকরা।
শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে বারটার সময় মুরাদপুরস্থ একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেল করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি এমপিভূক্ত হামিদিয়া হোসাইনিয়া রাজ্জাকিয়া দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটি মাদরাসায় বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত দীর্ঘ দিন ধরে কর্মরত বেশ কয়েকজন শিক্ষককে বাদ দিয়ে জালিয়াতি ও চরম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে মাদরাসায় কোন কার্যক্রমে যুক্ত নেই এমন ব্যক্তিদের এমপিওভুক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন মাদাসায় কর্মরত সুপারসহ বেশ কজন শিক্ষক।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা এ বিষয়ে কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন,উক্ত মাদরাসার সুপার মাওলানা ফরিদুল আলম,সহকারী সুপার মাওলানা নুরুল হক,সহকারী মৌলভী মাওলানা শফিউর রহমান এবং ইবি প্রধান মো: আব্দুস শুক্কুর।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, হামিদিয়া হোসাইনিয়া রাজ্জাকিয়া দাখিল মাদরাসায় বিগত ১/৪/২০০০ সালে বৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে সুপার মো: ফরিদুল আলম,সহকারী সুপার মো: নুরুল হক, সহকারী মৌলভী মো: শফিউর রহমান, ইবি প্রধান মো: আব্দুস শুক্কুর স্ব স্ব পদে দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু একই সময় সহকারী মৌলভী হিসেবেও নিয়োগ পান মাওলানা আবুল কাসেম। তবে বিস্ময়কর বিষয় হল সহকারী সুপার ও ভারপ্রাপ্ত সুপার থাকার সত্তে¡ও মাদরাসার পরিচালনা কমিটি কোন রেজুলেশন ছাড়াই অলোকিকভাবে সহকারী মৌলভীকে সুপার বানিয়ে গত বছর ২০১৯ সালে মাদরাসা এমপিওভুক্ত হলে জালিয়াতি ও চরম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তাদের নাম বাদ দিয়ে তদস্থলে বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ পরিক্ষা না নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন সৃজিত কাগজপত্র দাখিল করে এমপিওভূক্তির জন্য জমা দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উপ-পরিচালক ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এখনো সুরাহা না হওয়ায় মানসবেতর জীবন যাপন করছি। লোকমুখে শুনছি বহু টাকার বিনিময়ে পরিচালনা কমিটি বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
আমরা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করছি ডিজির প্রতিনিধি, ইউএনও মহোদয় ও মাদরাসার সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে নথি বদলের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে সংশ্লিষ্ট চক্রটি, একই সাথে শিক্ষক হাজিরা খাতাও বদলে ফেলা হয়েছে যা হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট এর মাধ্যমে তদন্ত করলে জালিয়াতির প্রমান মিলবে।
বহুবছর ধরে সহ সুপার পদে চাকুরী করা মো: নুরুল হককে পদাবনতি করে সহকারী মৌলভী দেখানো হয় যা চরম নীতি নৈতিকতার বরখেলাপ অন্য দিকে সহকারী মৌলভী আবুল কাশেমকে রাতারাতি সহ সুপার দেখানো হয়। বহু বছর আগে বৈধ ভাবে মু জসিমকে নিয়োগ দেয়া হলেও তার স্থলে ভুয়া একজনকে এমপিও ভুক্ত করা হয়। আমরা যথাথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে বলতে চাই মাদরাসার রেকর্ড ও ব্যানবেইসের নিয়মিত জরিপের তথ্য যাচাই করলে আমাদের বক্তব্যের সত্যতা পাবেন। এ বিষয়ে কর্তপক্ষের বরাবরে গণমাধ্যমের মাধমে আবেদন আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here