আদালতে হাজির মৃত ব্যক্তি, ৬ আসামি পেলেন মুক্তি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:অপহরণ ও হত্যার ছয় বছর পর নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির হলেন মৃত ব্যক্তি। অপহৃতকে হত্যা ও লাশ গুম করার অভিযোগে মামলা করেন নিহত মামুনের বাবা বাবা আবুল কালাম। সেই মামলায় ৬ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরাও বিভিন্ন মেয়াদে দীর্ঘ সময় জেলে থাকেন। হঠাৎ সেই মৃতব্যক্তি আদালতে উপস্থিত হলে বিচারক এ মিথ্যা মামলার ৬ আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) শুনানি শেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বেগম ফারহানা ফেরদৌস এ আদেশ দেন।

এ অপহরণ মামলায় দুই আসামি তাসলিমা ও রফিক দেড় বছর এবং তাসলিমার বাবা ও ভাইসহ আরও ৩ জনও তিন মাস জেল ছিলেন। ওই ভুক্তোভোগীরা দীর্ঘ সময় জেলে থাকায় ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করবেন বলে জানান তাদের আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নিখোঁজ হলেও ২০১৬ সালের ৯ মে ছেলেকে অপহরণ করে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করা হয়েছে অভিযোগ করেন মুমুনের বাবা আবুল কালাম।  তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন।  সেই মামলায় আসামি করা হয় গার্মেন্টসকর্মী মামুনের কথিত প্রেমিকা তাসলিমা, তার বাবা রহমত উল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সাগর, সোহেল ও ছাত্তার মোল্লাকে।

মামলার পরে সকল আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  প্রথমে তদন্ত করে ছয় জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন ফতুল্লা থানার এসআই মিজানুর রহমান।

পুলিশের আবেদনে মাকসুদা বেগম নামের এক নারী সাক্ষী হিসেবে দেয়া ‘অপহরণ করে খুন করার উদ্দেশ্যে গুমের বর্ণনা দেয়।  আদালতে ওই নারীর ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

ফতুল্লা থানা-পুলিশের পর মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। তারা মরদেহ খুঁজে না পাওয়ার কথা জানান আদালতকে। এরপর মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি।  ২৩ মাস তদন্ত শেষে তারাও আদালতে অপহরণের প্রমাণ হাজির করে প্রতিবেদন দেয়। এর পর শুরু হয় বিচার।  গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুনানি চলাকালে মামুন নিজেই হাজির হন বিচারকের সামনে। এ ঘটনায় সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য।

ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন সোহেল জানান, আদালত ৬ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।  একটি মিথ্যা মামলায় আসামি তাসলিমা ও রফিক দেড় বছর এবং তাসলিমার বাবা ও ভাইসহ আরও ৩ জনও বিভিন্ন মেয়াদে জেল হাজতে ছিল।  এজন্য ক্ষতিপুরণ দাবি করে মামলা করবেন।

আইনজীবী আরও জানান, মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে এনে আত্যাচার করেছে পুলিশ।  এ মামলায় মামুনকে খুন না করে কয়েকজন দীর্ঘ মেয়াদী জেলে খেটেছেন ।  যারা এ মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেছে তাদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করবেন ভুক্তভোগীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here