সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক:সালাম একটি সম্মানজনক অভ্যর্থনামূলক ইসলামি অভিবাদন। এর অর্থ শান্তি। আমরা এক মুসলমান অপর মুসলমানের সঙ্গে দেখা হলে পরস্পরের মধ্যে সালাম বিনিময় করি। তবে অন্য ধর্মালম্বী ব্যক্তিও কোনও মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হলে সালাম বিনিময় করে থাকেন। সালামের মাধ্যমে আমরা একে অপরের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে থাকি। সালাম দেয়ার ফলে একে অপরের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়ে। এছাড়া সালাম বিনিমেয়ের ফলে নিজের মধ্যে হিংসা ও অহংকার দূর হয়।

আল্লাহ তাআলা সর্ব প্রথম আদম (আ.) কে সালামের শিক্ষা দেন। হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টির পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে ফেরেশতাদের সালাম দেয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি সালাম দিলেন-
السلام عليكم

অর্থ: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

ফেরেশতারাও সালামের উত্তরে বললেন-
وعليكم السلام

অর্থ: আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।

হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, এক মুসলমানের অন্য মুসলমানের ওপর ছয়টি হক রয়েছে- তার মধ্যে সর্বপ্রথম হক হলো যখন কোনও মুসলমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, তখন তাকে সালাম দেয়া। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। কোনও মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কথা বলার আগে সালাম দেয়া, নবী করিম (সা.) এর আদর্শ। আর এর উত্তর দেয়া অবশ্যকরণীয়।

হাদিসে রয়েছে, একজন মুসলমানের সঙ্গে অপর মুসলমানের দেখা হলে কথা বার্তার আগে সালাম দিতে হবে।

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সালামের ফজিলত সম্পর্কে-

প্রথমত সালাম দেয়া সুন্নত ও সালামের উত্তরে ওয়ালাইকুমুস সালাম বলা ওয়াজিব। হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি রাসূল (সা.) এর নিকটে এসে বললেন-
السلام عليكم

আসসালামু আলাইকুম। তখন তিনি সালামের জওয়াব দিয়ে বললেন, লোকটির জন্য ১০ নেকি লেখা হয়েছে।

এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললেন-
السلام عليكم ورحمة الله
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। রাসূল (সা.) সালামের জওয়াব দিয়ে বললেন, তার জন্য ২০ নেকি লেখা হয়েছে।

এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললেন-
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকা-তুহ। রাসূল (সা.) তারও জওয়াব দিয়ে বললেন, তার জন্য ৩০ নেকি লেখা হয়েছে। (আবু দাউদ)।

সালামের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল (স.) বলেন, যখন দুইজন মুসলমানের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, সালাম -মুসাফাহা করে তখন একে অপরের থেকে পৃথক হওয়ার আগেই তাদের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এছাড়া সালামের দ্বারা পরস্পরের হিংসা বিদ্বেষ দূর হয়। অহংকার থেকেও বেঁচে থাকা যায়। সর্বত্র সালামের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে একে অপরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য। আল্লাহ আমাদের প্রতিনিয়ত এ আমন তাওফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here