পত্রিকা পড়ায় উদ্ভুদ্ধ করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছেন হকার (অধ্যাপক) ইসহাক শরীফ!

পত্রিকা পড়ায় উদ্ভুদ্ধ করতে মাইকিং করছেন হকার (অধ্যাপক) ইসহাক শরীফ
বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: যুবকদের হাতে বিনোদনের জন্য মোবাইল নয়, থাক একটি পত্রিকা। পত্রিকা পড়লে জ্ঞান বাড়ে, পত্রিকা পাঠক ও এলাকায় এলাকায় পত্রিকা পড়ার পাঠকসমৃদ্ব করতে ব্যতিক্রমি নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছে হকার হিসেবে পরিচিত পাওয়া সংগ্রামী মানুষ অধ্যাপক ইসহাক শরীফ। প্রাথমিকভাবে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন-পোস্টার লাগানো, লিফলেট বিতরণসহ মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করেছেন তিনি। বুধবার সকালে উপজেলার রাকুদিয়া নতুন হাট নামক স্থান থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে যুব সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তথ্য জ্ঞান পৌঁছে দিতে তার এই প্রয়াস শুরু করেন। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের অধ্যাপক ইসহাক শরীফ (৬৫)। ৫ বছর ধরে অধ্যাপনা থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন তিনি কোন আর্থিক অনটনের কারণে নয়, এলাকার মানুষের মাঝে তথ্য জ্ঞান পৌঁছে দিতে এ কাজ শুরু করেছেন। পায়ে হেঁটেই উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকা বিক্রি করেন। করোনা পরিস্থিতিতে খবরের কাগজ বিক্রি কিছুটা কমেছে। তবে খবরের কাগজ বিক্রিতে পূর্বের দিন ফিরে আসবে, এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে পেশা ছেড়ে যাননি অবসরপ্রাপ্ত এ অধ্যাপক । উপজেলার রাকুদিয়া আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন ইসাহাক শরীফ। ২০০৯ সালে কলেজ শিক্ষকতা থেকে অবসরের পর ২০১৫ সালের ১ মে থেকে জ্ঞানের ফেরিওয়ালা (হকার) বনে যান তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে হকারি কাজ শুরু হয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসাহাক শরীফের। পায়ে হেটে সহ বিভিন্ন যানবাহনে বাবুগঞ্জের কেদারপুরের পূর্ব ভূতেরদিয়া থেকে বাহেরচর, রাকুদিয়া, রহমতপুর, মাইল ক্যাডেট কলেজ এবং উজিপুরের গুঠিয়া এলাকার প্রতিদিন গ্রাহকদের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি, ঝড়, শৈত্য প্রবাহ কোনও কিছুই ইসাহাকের হকারি কাজে বাঁধ সাধতে পারেননি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ‘পড়ুন শিখুন, জীবন গড়ুন’ বলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে উৎসাহিত করেন তিনি। এবার তিনি নতুন করে- যুবকদের হাতে বিনোদনের জন্য মোবাইল নয়, থাক একটি পত্রিকা। পত্রিকা পড়লে জ্ঞান বাড়ে, পত্রিকা পাঠক ও এলাকায় এলাকায় পত্রিকা পড়ার পাঠকসমৃদ্ব করতে ব্যতিক্রমি নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছেন। ইসাহাক শরীফ বলেন, যুব সমাজ কে আমাদের রক্ষা করতে হবে। সন্দ্ব্যায় তারা লেখা পড়ার জন্য ঘরে থাকবেন রাস্তায় নয়। মোবাইলে গেম খেলে তারা সময় নষ্ট করছে। তাই যুবকদের হাতে বিনোদনের জন্য মোবাইল নয়, থাক একটি পত্রিকা। এদেশে কাজের শ্রেণি বিন্যাসে যুবকরা পরিশ্রম বিমুখ। তারা পরিশ্রমের কাজকে হেয় মনে করে এবং এ কারণে তারা কাজ পায় না। তারা বেকারত্বের মধ্যে নেশায় মত্ত হয়। আর্থিক অস্বচ্ছলতা না থাকার পরও তাদের কাছে উদাহরণ সৃষ্টির জন্য এই কাজ চালাচ্ছেন তিনি। এটা তাদের জন্য একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে। প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দৈনিক পত্রিকা আসতো না। কাজকে লজ্জা না করে তিনি বৃদ্ধ বয়সে ঘরে বসে না থেকে গ্রামে গ্রামে পত্রিকা বিলি করে ভালো কাজ করছেন। এতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ তথ্য-জ্ঞান সমৃদ্ধ হবে এবং নতুন প্রজন্ম তার কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হবে। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, ইসাহাক শরীফের সকল কর্মকাণ্ডই ভাল। সে অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। কিন্তু তার মতো মানুষকে সন্মান জানানোর লোকের বড়ই অভাব সমাজে। সমাজের বেকারদের কাছে ইসাহাক শরীফ অনুকরণীয় হোক সেটাই প্রত্যাশা। বাবুগঞ্জের রাকুদিয়া গ্রামের আবুল কালাম শরীফ ও গৃহিনী জামেনা খাতুন দম্পত্তির ছেলে ইসাহাক শরীফ ১৯৬৩ সালে বানারীপাড়ার চাখার ফজলুল হক স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ৪ ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ইসাহাক চাখার ফজলুল হক কলেজ থেকে ৬৮ সালে এইচএসসি পাস করে ৭১ সালে ভোলা সরকারি কলেজ থেকে বিএসসি এবং ৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here