ভিডিও বার্তা ভাইরাল ‘ছাত্রলীগ আমাকে মেরেও ফেলতে পারে’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃচট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম নামে এক হাফেজি মাদরাসার শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে এক ভিডিও বার্তায় বলেন আজ রাতে আমাকে ‘ছাত্রলীগ মেরে ফেলতে পারে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপর সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম আত্মহত্যা করেননি বরং তাকে ওই রাতে রুমের মধ্যে বেঁধে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

স্বজনদের দাবি, বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক শিশু যৌন হয়রানির অভিযোগে রুমের মধ্যে বেঁধে তাকে মারধর করেন। এলোপাতাড়ি মারধরের ফলে তৌহিদ মারা গেলে ঝুলিয়ে রেখে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজের সামনের ইলিয়াস বিল্ডিং থেকে তৌহিদুল ইসলামের (২২)  ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত তৌহিদ চুনতি ইউনিয়নের শমসু মেম্বার পাড়ার শামসুল ইসলামের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আল-কুরআনুল হাকীম আদর্শ হেফজখানার শিক্ষক ছিলেন।

মৃত্যুরআগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করেন তৌহিদ। তার এ ভিডিওটি মৃত্যুর পর ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিও বার্তায় নিহত হাফেজ তাওহীদুল ইসলাম ঘুমের মধ্যে তাকে মেরেও ফেলতে পারে বলে আশংঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আসসালামু আলাইকুম। শেষ বিদায়। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমার আব্বা আম্মার জন্য দোয়া করবেন। আহারে! ছাত্রলীগ। এদেরকে আপনারা দেখবেন। এই নাস্তিকগুলো হুজুরদের টুপিকে দেখতে পারে না। এরা এখানে আমাদেরকে বন্দি করে রাখছে। হুজুর ওখানে ঘুমাচ্ছে, আমি এখানে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। শেষ বিদায়। ওরা কিছুক্ষণ পরপর দরজায় বারি (ধাক্কা) দেয় আমাদেরকে পিঠানোর জন্য। আমরা দুইজন এইখানে আটকে আছি। আমাদেরকে বেঁধে রাখছে যে। আপনারা একটু দেখবেন। হয়তো রাতে ঘুমানোর মধ্যে মেরেও ফেলতে পারে।”

ওই হেফজখানার শিক্ষক মু. ইসমাঈল জানান, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে বলৎকারের অভিযোগ এনে তৌহিদকে স্থানীয় ১০-১২ জন যুবক অপমান ও মারধর করে। মৃত্যুর আগে হাফেজ তাওহীদুল ইসলাম ও তাকে রুমে তালা মেরে আটকে রাখে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে তৌহিদের চাচা মোহাম্মদ আলী জানান, বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরিফুলের নেতৃত্বে একদল যুবক বলৎকারের অভিযোগ তৌহিদকে মারধর করেন। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নামানোর সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু তৌহিদের মুখ ও চোখ স্বাভাবিক ছিল; আত্নহত্যা করার মতো কোন চিহ্ন তার চোখে মুখে ছিল না বলে তিনি জানান।

তৌহিদের বাবা শমসুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে আত্নহত্যা করেনি। তাকে আরিফের নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগনেতা আরিফুল ইসলাম জানান, আমি হৈ চৈ শুনে ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু বলৎকার সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় তৎক্ষণাৎ চলে আসি। তৌহিদকে মারধরের ব্যাপারে তিনি জড়িত নন বলে জানান।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, লাশের ময়না তদন্তের রির্পোট এখনো আসেনি। রির্পোট আসার পর হত্যা না আত্নহত্যা জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় আত্নহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here