মুরগি মিলনের শত কোটি টাকার সম্পত্তি লুটপাট

নিজস্ব প্রতিনিধিঃরাজধানীর এক সন্ত্রাসীর অন্তত একশো কোটি টাকার সম্পত্তি এখন লুটপুটে খাচ্ছে তার দূর সম্পর্কের স্বজনরা। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অপহরণ আর অবৈধ সোনার কারবার থেকে এসব অবৈধ সম্পদ দখলে আসে তার। ওই সন্ত্রাসীর খুন হওয়ার পর তার স্ত্রীকে কৌশলে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে যা এখন আদালতে। এই সন্ত্রাসীর নাম হুমাযুন কবির ওরফে মুরগি মিলন। নব্বইয়ের দশকে যিনি ছিলেন ঢাকার ত্রাস, ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীদল সেভেন স্টার গ্রুপের অন্যতম সদস্য। এখন মুরগি মিলনের সব সম্পদ ক্রোক করার পরিকল্পনা করছে দুদক।

তিন দশক আগের ঢাকার ত্রাস হুমায়ুন কবীর ওরফ মুরগী মিলন। প্রভাববিস্তারের দ্বন্দ্বে প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষের গুলিতে মিলন খুন হন ২০০০ সালে। আর ২০০৫ সালেই মিলনের স্ত্রী নাসরিন আকতার ডলি দ্বিতীয় বিয়ে করেন সুইজারল্যান্ড ফেরত নারায়নগঞ্জের মাহবুবুর রহমান সরদারকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,২০১৩ সালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডলির মৃত্যু হয়।এর ৩৪ দিনের মাথায় অনেকটা গোপনে মুরগি মিলনের সূত্রে প্রাপ্ত ডলিরসবসম্পত্তি একমাত্র নাবালক সন্তানের নামে হস্তান্তর করিয়ে নেন মাহবুব। সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মাহবুবই এই সম্পদ দেখভাল করেন।

এর এক বছর পরই ডলির মা সালেহা খানম বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিষপানে তার মেয়েকে হত্যারঅভিযোগ করা হয় মামলায়। প্রথমে মোহাম্মদপুর থানা পরে পিবিআই তদন্ত করে মামলাটি।

অবশ্য পিবিআই’র সঙ্গে একমত নন মামলার বাদি ছালেহা খানম। অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পক্ষে ছেলে জানান,ডলিকে খুন করা হয় পরিকল্পিতভাবে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিলনের শত কোটির অবৈধ সম্পদ ভোগ করছেন স্ত্রীর দ্বিতীয় স্বামী। হাতিরপুলের বেলভিউ মার্কেটে গেলে দেখা যায় ১০ তলা ভবনটির পুরোটাই বানিজ্যিকভাবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এক নিরাপত্তাকর্মী জানানেল, এটি নিয়ন্ত্রণ করেন মাহবুব। প্রতিমাসে এখান থেকে ৮ লাখ টাকা ভাড়া উঠানো হয়।

পুরানা পল্টনে সেরেনা অ্যাপার্টমেন্টে আছে একটি ফ্ল্যাট। এটি ভাড়া দিয়েছেন আলমগীর নামে এক ফল বিক্রেতার কাছে।উত্তরার ৫কাঠার প্লটে নির্মাণ করা হয়েছে সেনেটারি দোকান। সেটি থেকে ভাড়া দিয়েছেন মাহবুবের এক আত্মীয়কে।

বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও মাহবুবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার কাশিপুরে মাহবুবের বাড়িতে ৩ ঘন্টারও বেশি সময় অপেক্ষার পরও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশ্য সেই সময় মাহবুব বাড়িতেই ছিলেন বলে জানান প্রতিবেশিরা। পরে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি মাহবুবুকে।

মুরগি মিলনের স্বজনদের খোঁজে ধানমন্ডির ফ্রি স্কুল স্টিটে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি প্লটে এখন মিলনের দুইভাই ও এক বোন বাড়ি বানিয়েছেন। দুইভাই মারা গেলেও বেঁচে আছেন বোন নাজমা ভূঁইয়া। মিলনের বিষয়ে মুখ খোলেন নি তিনিও।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, মিলনের এসব সম্পদেরর দখলদারা সম্পদের উৎস দেখাতে না পারলে ক্রোক করা হবে।

 

মুরগি মিলনের যত সম্পদ

৫ কাঠার ওপর অবস্থিত হাতিরপুলের ১০ তলা। বাণিজ্যিক ভবন দাম প্রায় ৩০ কোটি। পুরানা পল্টনের আবাসিক ফ্ল্যাট, দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা। উত্তরায় ৫ কাঠার প্লট, দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা। ধানমন্ডিতে তিনটি বহুতল ভবন, দাম প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here