মিল মালিকদের চাহিদা অনুসারে ভোগ্যপণ্য সরবরাহে ব্যর্থতায় পাইকারী বাজার অস্থির

নিজস্ব প্রতিনিধিঃদেশের ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজারে কয়েক মাস ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে।আমদানিকারক ও মিল মালিকরা ডিও বিক্রি করে বাজার থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করলেও চাহিদা অনুসারে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে। তাতে পাইকারি পর্যায়ে প্রস্তুত পণ্যের দামে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে ডিও মূল্যের সঙ্গে প্রস্তুত পণ্যের দামের পার্থক্যও বেড়েই চলেছে। ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ও ডিও ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মণ সরবরাহ উপযোগী (প্রস্তুত পণ্য) পাম অয়েল, সয়াবিন অয়েল, চিনির দামের সঙ্গে পণ্যগুলোর ডিও মূল্যের পার্থক্য থাকে ২০ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দামের ওই পার্থক্য ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ পাম অয়েলের ডিও বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৯৯০ টাকায়। অথচ মিল থেকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ১৭০ টাকায়। অর্থাৎ ডিও মূল্যের সঙ্গে প্রস্তুত পাম অয়েলের দামের পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ১৮০ টাকা। মিল মালিকরা পণ্য সরবরাহ বাড়াতে না পারলে এ পার্থক্য আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশের প্রায় প্রতিটি মিলেই ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট রয়েছে। ডিও লেটার নিয়ে মিলগেটে ট্রাক পাঠানো হলেও অধিকাংশ ট্রাকই প্রথম দিন ভোজ্যতেল সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে দিনের পর দিন ট্রাক মিলগেটে অপেক্ষায় থাকায় উত্তোলনযোগ্য ভোজ্যতেলের দামে বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাক একদিন অতিরিক্ত মিলগেটে অপেক্ষা করলে দূরত্বভেদে ব্যবসায়ীদের ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ যুক্ত হয়। যা ভোজ্যতেলের বাজারকে আরো অস্থিতিশীল করছে। বর্তমানে বাজারে সিটি গ্রুপের পাম অয়েলের পর্যাপ্ত ডিও রয়েছে। তবে এ গ্রুপের নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের মিল থেকে চাহিদা অনুপাতে পণ্য সরবরাহ দিতে না পারায় ডিওর দাম তুলনামূলক কম। একই অবস্থা চট্টগ্রামের টিকে গ্রুপেরও। খাতুনগঞ্জে টিকে গ্রুপের পাম অয়েলের ডিও লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮৬০ টাকায়। অথচ টিকে গ্রুপের রেডি পাম অয়েল ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ টিকে গ্রুপের রেডি ও ডিও পাম অয়েলের দামের পার্থক্য দাঁড়ায় ১৪০ টাকা। তাছাড়া সুপার পাম অয়েল মানভেদে ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। আর সিটি গ্রুপের সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৪৫০ (প্রস্তুত) টাকা এবং টিকে গ্রুপের প্রস্তুত সয়াবিন তেল ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৪২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের পাঁচ-সাতটি আমদানিকারকের ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মধ্যে দু-একটি ছাড়া অধিকাংশ মিলই নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ দিতে পারছে না। এ কারণে সরাসরি সংগ্রহযোগ্য ভোজ্যতেলের দাম ডিও ভোজ্যতেলের দামের চেয়ে অনেক বেশি। সিটি, টিকেসহ একাধিক কোম্পানি বাজারে হাজার হাজার ডিও ছেড়ে অর্থ উত্তোলন করলেও মিল থেকে পণ্য সরবরাহ দিতে না পারায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে পণ্যের দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তাছাড়া গত কয়েক দিনের ব্যবধানে মণপ্রতি চিনির দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০ থেকে ২ হাজার ৬৫ টাকায় লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে এস আলম সুগার ২ হাজার ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও সিটি সুগার বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ৫৫ টাকায়। এস আলম সুগারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যথারীতি সিটি সুগারের সরবরাহ তুলনামূলক শ্লথ।
এদিকে এ প্রসঙ্গে টিকে গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. জসিম উদ্দিন বণিক জানান, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে বৈশ্বিক বুকিং দর বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারেও ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলক বেশি। আগে চট্টগ্রামে একাধিক ভোজ্যতেল আমদানি ও পরিশোধন কারখানা থাকলেও বর্তমানে মিলের সংখ্যা কমে গেছে। এ কারণে বাড়তি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সময় সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘœ ঘটছে। তবে আসন্ন শীত মৌসুমে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের সম্ভাবনা থাকলেও দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বাজার অস্বাভাবিক হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here