পরকীয়ায় বাধাঁ দেয়ায় স্বামীর নামে স্ত্রীর যৌতুক মামলা

মাদারীপুর প্রতিনিধি :পরকীয়ায় বাধাঁ দেয়ার কারণে স্বামীর নামে উল্টো যৌতুক মামলা দায়ের করেছে পরকীয়ায় আসক্ত এক নারী।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৪২ নং মাঠিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তার শাম্মী। চরমুগরিয়া ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় তার উপরে ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হলে তিনি প্রথমে মেডিক্যাল ছুটি ও পরে কিছু দিন অফিসে কাজ করার পর এক বছর মেয়াদী বি.এড প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকা টিচার্স টের্নিং কলেজে চলে গেলে তার শিক্ষক স্বামী তাদের দুইটি পুত্র সন্তাকে লালন পালন করলেও ফারহানা আক্তার বি.এড প্র্রশিক্ষণের সময় পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন।

বি.এড শেষ করে বাসায় আসলে গভীর রাতে তার স্বামী কথিত প্রেমিকের সাথে তাকে কথা বলতে দেখলে নাম্বারটি চিনেন না বলে ব্লক করে দিলে তার পরকীয়া কথিত প্রেমিক তার স্বামীর নাম্বারে ফোন দিয়ে আজেবাজে কথা বলেন এবং তাদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু খারাপ কথা বলেন এবং তার হাতে হাত রাখার ছবি পাঠিয়ে দেয়। এর পরেও অসহায় শিক্ষক স্বামী তাকে সেখান থেকে ফিরে আসার অনুরোধ জানালে তিনি তার স্বামীকে হুমকি দিয়ে বলেন আমার যা ইচ্ছে আমি তাই করবো তাতে তোর কি এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি তোকে তালাক দিবো এবং তোর ফেসবুক আইডি থেকে তোর এমন সম্মান নষ্ট করবো যা তুই কোনদিন কল্পনাও করতে পারবি না। তুই ভুলে যাইস না যে তোর ফেসবুকের পাসওয়ার্ড আমি জানি।

শুধু তাই নয় ঐ নারীর ঝগড়ার কারণে শিক্ষক স্বামী বাসা থেকে বেরিয়ে গেলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর বেলায় ঐ নারী বাসায় থাকা স্বর্নালংকার, একশত টাকার তিনটি স্ট্যাম্প, বাসার আসবাবপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে গিয়েই শিক্ষক স্বামীর সকল মোবাইল নাম্বার ব্লাক লিস্টে ফেলে দেয় এবং তারপর ঐ পরকীয়ায় আসক্ত নারী তার স্বামীর ফেসবুক আইডি ব্লক করে দেয়। এর পরে তার কথিত প্রেমিক তার স্বামীর ইমো নাম্বারে তার স্ত্রীর নামে আজেবাজে কথা বললে এবং বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া মালামালের কোন সুরাহা না পাওয়া গেলে তার স্বামী উক্ত নাম্বার উল্লেখ করে, গত ৩০ সেপ্টোম্বর সকাল ১০টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। খবর পেয়ে তার পরেই স্ত্রী অসহায় শিক্ষক স্বামীর নামে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট যৌতুক মামলা দায়ের করেন যা, আদালতে গিয়ে তার স্বামী জানতে পারেন।

এই বিষয়টি জানাজানির পরে এলাকাবাসীর ভিতরে সমালোচনার ঝড় নেমে আসে। কেউ কেউ বলেন এই নারীতো বহুল আলোচিত মিন্নীকেও হার মানিয়েছে। মামলার কথা জানতে পেরে তার শিক্ষক স্বামী বলেন, এক দিকে আমার বাসার সমস্ত মালামাল ও আমার কলিজার টুকরা দুইটি সন্তানকে নিয়ে গিয়ে আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, অন্য দিকে মামলা দিয়ে আমার মান-সম্মান নষ্ট করেছে। হে মহান তুমি আমাকে মরণ দাও।

তবে এ ব্যাপারে ফারহানা আক্তার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here