সমালোচনার মুখে এসএমপি কমিশনার বদলি

সিলেট প্রতিনিধি:সমালোচনার মুখে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বদলি করেছে।

এই প্রজ্ঞাপনে দেশের আরো ১৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দেয়া হয়। সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহেরও এসএমপি কমিশনারের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১১ অক্টোবর সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হন। ঘটনার পর সাত পুলিশ সদস্যের চারজনকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে লাপাত্ত হয়ে যান।

জানা য়ায়, এসআই আকবরের পালিয়ে যাওয়াসহ সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক গায়েবে সহায়তা করেন হাসান ও নোমান। এসআই আকবরের সোর্স ও ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন নোমান। তার বাড়ি কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বুরিডহর গ্রামে হলেও নগরের হাউজিং এস্টেটে ভাড়া থাকতেন। তার বাবা মো. ইছরাইল আলী কোম্পানিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক। তার মা মোছা. বিলকিস আক্তার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কোম্পানিগঞ্জের স্বাস্থ্য কর্মী বলেও জানা গেছে। এরই মধ্যে নোমানের সন্ধানে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়েছে। তার পরিবারের লোকজনকেও বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।

এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি এসআই আকবরকে পলায়নে এসআই হাসানের সহায়তার প্রমাণ পায়। নির্যাতনের তথ্য গোপন ও এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় বুধবার (২১ অক্টোবর) হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলীর শেখ।

সূত্র জানায়, নগরের গ্যালারিয়া শপিং সিটির ফ্রেন্ডস কম্পিউটার নামের একটি দোকান থেকে নতুন হার্ডডিস্ক কিনে সংযোজন করে পুরনো হার্ডডিস্ক সরিয়ে নেন আকবর, হাসান ও নোমান। লাপাত্তা আকবরের সঙ্গে নির্যাতনের প্রমাণসহ ধারণ হওয়া সিসি ক্যামেরার মূল হার্ডডিস্কও গায়েব হয়ে যায়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশিরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, আকবরকে পালাতে সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার বিষয়ে বাকি পদক্ষেপ নেবে পিবিআই।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর আকবরসহ চার পুলিশকে বরখাস্ত ও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার পর রোববার থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন। মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পূনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

এদিকে, সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিনের (৩০) দেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ফরেনসিক রিপোর্টে। এসব আঘাতের ৯৭টি লীলাফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিলা জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। আর অতিরিক্ত আঘাতের কারণে দেহের ভেতর রগ ফেটে গিয়ে রক্তক্ষণে রায়হানের মৃত্যু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here