‘এক সপ্তাহেই’ বিচার শেষ: শিশু ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শিশু ধর্ষণের দায়ে হওয়া মামলায় মাত্র সাত দিনের মাথায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বাগেরহাটের একটি আদালত। বাংলাদেশে ফৌজদারি মামলার ইতিহাসে দ্রুততম বিচারের ঘটনা এটি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মামলার একমাত্র আসামি আব্দুল মান্নান সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘সন্দেহাতীতভাবে’ প্রমাণিত হওয়ায় ২০০০ সালের নারী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর মোংলা উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের এই মামলার অভিযোগ গঠন হয়। আর রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এই মামলার আসামি আব্দুল মান্নান সরদার মোংলা উপজেলার মাকোড়ডোন গ্রামের ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকার প্রয়াত আহম্মদ সরদারের ছেলে।

তার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় সোমবার রায় ঘোষণা করল আদালত। বাংলাদেশে এত অল্প সময়ে আর কোনো ফৌজদারি মামলার বিচার শেষ হওয়ার নজির নেই বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি রনজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, কোনো ধর্ষণের ঘটনায় আসামি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বাগেরহাটের আদালত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

১২ অক্টোবর যেদিন এ মামলার অভিযোগ গঠন হয়, তখনও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তার পরদিনই আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার।

এর আগে শিশু ধর্ষণের এই মামলার বিচার শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করে সোমবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, মাকোড়ডোন গ্রামের ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় পিতৃহারা সাত বছর বয়সী শিশুটি তার মামার কাছে থেকে বড়ো হচ্ছে। গত ৩ অক্টোবর বিকালে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান সরদার বিস্কুট খাওয়ার প্রলোভন দিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

ওইদিন রাতেই মেয়েটির মামা মোংলা থানায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার এসআই বিশ্বজিত মুখার্জ্জী ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল বলেন, গত ১২ অক্টোবর মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৩ অক্টোবর বাদীপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৪ অক্টোবর চিকিৎসক, বিচারিক হাকিম, নারী পুলিশ সদস্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৫ অক্টোবর আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here