নিত্য পণ্যের বাজারে আগুন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পদতলে জনজীবন পিষ্ট হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে দৈনন্দিন পারিবারিক চাহিদা মেটাতে পরিবার প্রধানদের উঠছে নাভিশ্বাস। তাছাড়া চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, আদা থেকে শাকসবজি পর্যন্ত মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সরকার সংকট সামাল দিতে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করে দিলেও তারা সেটা মানছে তো নাই-ই, উপরন্তু কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতারিত করছে সবাইকে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে কথাগুলো বলছিলেন খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে আসা মিজান খাঁন৷

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা পড়েছি বিপাকে, যারা কারো কাছে যেতে পারে না বলতে পারে না, না পারে বাসা-বাড়িতে কাজ করতে, তাছাড়া রয়েছে করোনার ভয়।’

খুলনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, শাকসবজি থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বেশি। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৪১-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামের সমান। অথচ সরকার পাইকারি পর্যায়ে আলুর দাম ২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়, যা আগের দামের সমান। কাঁচামরিচ কেজি প্রতি ২০০ টাকা।

ভ্যান চালক মুজিবর রহমান জানান, ঘরে কোন তরকারি না থাকলে অন্তত কাঁচামরিচ দিয়ে আলু ভর্তা মেখে ভাত খেয়ে সকালে বের হই। কিন্তু সেই আলুও কেনার উপায় নেই। দৈনিক যা আয় হয়, তা দিয়ে চলা খুব কঠিন।

কাজদিয়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আলি হোসেন বলেন, আমাদের বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে, আবার ১ বস্তা আলুতে ৩-৫ কেজি নষ্ট বের হয়। আলুতে আমাদের খুব সীমিত লাভ হয়।

খুলনা বড় বাজারের ব্যবসায়ী জাবেদ আলী মোড়ল বলেন, আমার ব্যবসায়িক জীবনে আলুর এমন অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি হতে দেখিনি। তাছাড়া আলুর মতো অনন্য তরকারির দামও বেশি। আমরা পণ্য যে দামে ক্রয় করি, সেগুলো অল্প লাভে বিক্রি করে থাকি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন জানান, প্রতিদিনই আমরা নগরীর বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করছি। বেশি দামে পণ্যবৃদ্ধির দায়ে অনেককে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here