নামের মিল থাকায় বিনাদোষে ৮ দিন কারাভোগের পর সেই বৃদ্ধের মুক্তি

সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালী ঃ নামের মিল থাকায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা বৃদ্ধ হা‌বিবুর রহমান‌কে (৮০) সসম্মা‌নে মু‌ক্তি দি‌য়ে‌ছেন আদালত। পাশাপা‌শি একজন সম্মা‌নিত ব‌্যক্তি‌কে হেনস্থা করার জন‌্য যারা জ‌ড়িত তা‌দের বিরু‌দ্ধে আইনানুগ ব‌্যবস্থা গ্রহ‌ণেরও নি‌র্দেশ দেয়া হ‌য়ে‌ছে। রোববার বিকেল সোয়া ৪টায় এ রায় ঘোষণা ক‌রেন পটুয়াখালীর প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আবুল বাসার মিয়া।
এর আগে বেলা ১২টায় বিচারক মো. আবুল বাসার মিয়ার আদাল‌তে বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানের মু‌ক্তি চে‌য়ে তার পক্ষে অ্যাডভোকেট এ টি এম মোজাম্মেল হোসেন তপন হা‌বিবুর রহমা‌নের সঙ্গে সংঘঠিত অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে আ‌বেদন করেন। রা‌য়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি নাহার গা‌র্মেন্টসের মা‌লিক হা‌বিবুর রহমান‌কে জেলখানায় প্রের‌ণের নি‌র্দেশ দেন। এর আ‌গে এ ঘটনায় জ‌ড়িত থাকার অ‌ভি‌যো‌গে গলা‌চিপা থানার এএসআই আলা‌মিন‌কে ওই থানা থে‌কে ক্লোজড ক‌রে পটুয়াখালী পু‌লিশ লাই‌নে আনা হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জানিয়েছেন গলা‌চিপা থানার ও‌সি মো. ম‌নির হো‌সেন। মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গলাচিপা পৌর শহরের মুজিব নগর রোডের নূর মোহাম্মাদ মাস্টারের ছেলে ও গলাচিপা থানা সংলগ্ন সদর রোডের নাহার গার্মেন্টসের মালিক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ২০১২ সালের ০৬ অগাস্ট ব্র্যাক থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সে সময় তিনি ব্র্যাকের অনুকূলে উত্তরা ব্যাংক গলাচিপা শাখায় তার নিজস্ব একাউন্টের (হিসাব নম্বর ২২০০) ঋণের সমপরিমাণ অর্থের একটি চেক জমা দেন। কিন্তু তিনি ওই ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ হাবিবুর রহমানের জমাকৃত চেকটি ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল ওই ব্যাংকে জমা দিলে একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ডিজঅনার হয়।
পরে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের ০২ মে তাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। কিন্তু, তিনি ব্র্যাক থেকে ঋণ নেননি মর্মে ওই বছরের ১৬ জুন লিখিত ভাবে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা ঋণগ্রহীতা হাবিবুর রহমানের বিরদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পটুয়াখালীর বিজ্ঞ যুগ্ম দায়রা জজ জিন্নাৎ জাহান ঝুনু ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ রায় দেন। রায়ে হাবিবুর রহমানকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ঋণের দ্বিগুণ অর্থ, অর্থাৎ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দণ্ডের আদেশ দেন। রায়ের দিন ঋণগ্রহীতা হাবিবুর রহমান আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী গলাচিপা থানার সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) আল-আমিন শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় গলাচিপা বনানী এলাকার ৮০ বছরের বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে চলতি বছরের ০৪ অক্টোবর দুপুরে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে। ওইদিনই তাকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠায়। কারাগারে পাঠানো হাবিবুর রহমানের পিতার নাম নূর মোহাম্মাদ পন্ডিত। এদিকে, প্রকৃত ঋণগ্রহীতা হাবিবুর রহমান প্রায় ৫ বছর আগে গলাচিপা থানা সংলগ্ন সদর রোড থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে মহিলা কলেজ সড়কে নতুন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। তিনি ব্যবসার ধরণ পাল্টে এখন মুদি-মনোহরির ব্যবসা করছেন। এ বিষয়ে কারাগারে পাঠানো হাবিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ‘হাবিবুর কোন দিন ব্যবসা করেননি, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণও নেন নি। তার দুই ছেলে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে। তারা বাবা, মায়ের ভরণ-পোষণের জন্য প্রতি মাসে যে টাকা দেয়, তা দিয়ে স্বামী-স্ত্রী গলাচিপায় বসবাস করে। পুলিশকে বিষয়টি বলা হয়েছিল কিন্তু, তারা শোনেনি। এদিকে, নিরাপরাধ বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে জেলে পাঠানোর পর তার সন্তানরা ঢাকা থেকে পটুয়াখালীতে এসে কোর্টের কাগজপত্র উঠানোর পর দেখেন শুধুমাত্র নামের মিল থাকার কারণে অন্য লোকের পরিবর্তে তাদের বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছে গলাচিপা পুলিশ। পরবর্তীতে তারা কাগজপত্র নিয়ে গলাচিপা থানায় গেলে প্রকৃত বিষয়টি উন্মোচিত হয়। অপরদি‌কে, জেলা পু‌লি‌শের পক্ষ থে‌কে প্রকৃত ঘটনা উদঘাট‌নের জন‌্য ৩ সদস‌্য বি‌শিষ্ট এক‌টি তদন্ত টিম গঠন করা হ‌য়ে‌ছে। তদন্ত টিমে রয়েছেন, পটুয়াখালীর অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার (হেড‌কোয়াটার) শেখ বেল্লাল হো‌সেন‌, বাউফল সা‌র্কেল মোঃ ফারুক হো‌সেন এবং পু‌লি‌শের ডিআইওয়ান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here