৭দিন জেল খেটে অবশেষে মুক্তি পেলেন নিরপরাধ বৃদ্ধ: এএসঅাই প্রত্যাহার

রিয়াদ হোসাইন,গলাচিপা : অপরাধির নামের সাথে মিল থাকায় বিনা অপরাধে ৭ দিন জেল খেটে অবশেষে মুক্তি পেলেন গলাচিপা উপজেলার (৮০) বছরের বৃদ্ধ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। রবিবার পটুয়াখালীর যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. আবুল বাশার মিয়া তাকে মুক্তির আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে বিকেলে জেল কতৃপক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে জেল থেকে মুক্তি দেন। মুক্তি পেয়ে তিনি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। এদিকে শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় ৮০ বছরের নিরপরাধ বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে জেল-হাজতে পাঠানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গলাচিপা থানার পুলিশের এএসআই আল আমিনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিকদের। তিনি জানান, নামের মিল থাকায় অসাবধানতা বশত: ওই বৃদ্ধকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার ওই বৃদ্ধকে মুক্ত করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করার প্রেক্ষিতে অাদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে । এনজিও ব্র্যাকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, চেক ডিজ অনারের একটি মামলায় গলাচিপা শহরের মুজিব নগর এলাকার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের স্থলে শহরের কলেজ রোডের মোহাম্মদ হাবিবুরর রহমানকে(৮০)পুুলশ গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছিলো। নিরাপরাধ হাবিবুর রহমান আদালতের নির্দেশে রবিবার মুক্তি পেলেন।
উল্লেখ্য গলাচিপা শহরের কলেজ পাড়ার বনানী এলাকার ওই বৃদ্ধকে ৪ অক্টোবর একটি চেক ডিজ অনার মামলায় গলাচিপা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে জেল খানায় পাঠিয়ে দেয়। ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাক দায়েরকৃত একটি মামলায় পটুয়াখালীর যুগ্ম জেলা দায়রা জজ আদালত মো. হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদন্ড ও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার অর্থ দন্ডের নির্দেশ দেয়। জানা গেছে, গলাচিপা থানা সংলগ্ন সদর রোডের ‘নাহার গার্মেন্টস‘র মালিক মো. হাবিবুর রহমান, পিতা- নূর মোহাম্মাদ মাষ্টার, মুজিব নগর রোড, গলাচিপা পৌর শহরের বাসিন্দা। ৬ আগস্ট ২০১২ তারিখ ব্র্যাক থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ব্র্যাকের অনুকূলে উত্তরা ব্যাংক গলাচিপা শাখায় তার নিজস্ব একাউন্টের (হিসাব নং ২২০০) ঋণের সমপিরমান অর্থের একটি চেক জমা দেন। কিন্তু তিনি ওই ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ হাবিবুর রহমানের জমাকৃত চেকটি ১০এপ্রিল ২০১৩ ওই ব্যাংকে জমা দিলে তাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজ অনার হয়। পরে ব্রাক কর্তৃপক্ষ ২ মে ২০১৩ তারিখে তাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। কিন্তু তিনি ব্রাক থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি মর্মে ১৯জুন ২০১৩ তারিখ লিখিতভাবে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা ঋণ গ্রহিতা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পটুয়াখালীর যুগ্ম দায়রা জজ জিন্নাৎ জাহান ঝুনু ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ রায় দেন। রায়ে মো. হাবিবুর রহমানকে ১ বছরের কারাদন্ড ও ঋণের দ্বিগুন অর্থ অর্থাৎ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দেন। রায়ের দিন ঋণ গ্রহিতা মো.হাবিবুর রহমান আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী গলাচিপা থানার সহকারি পরিদর্শক (এএসআই) আল-আমিন শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় গলাচিপা বনানী এলাকার ৮০ বছরের বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে ৪ অক্টোবর দুপুরে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে এবং ওই দিনই তাকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠায়। সাজাভোগকরা হাবিবুর রহমানের পিতার নাম মৃত নূর মোহাম্মাদ পন্ডিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here