ধর্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক ফায়দার অপচেষ্টা বিএনপির: কাদের

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ধর্ষণ ইস্যুতে একটি দল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করছে। বিএনপি এসব ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। যখনই কোনও ইস্যু পায়, তা খড়কুটোর মত আঁকড়ে ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অপপ্রয়াস চালায়। কোনও অপকর্মই রাজনৈতিক রং দিয়ে আড়াল করতে চায় না সরকার।’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেতাদের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগ নয়, আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে বিএনপির ‘টপ টু বটম’ পদত্যাগ করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধী ও খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া, পুনর্বাসন করা, খুনিদের লালন-পালন এবং খুন, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভয়ারণ্য তৈরি করেছিলো।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, নারী নির্যাতন বিশ্ব বিবেককে হতবাক করে দিয়েছিলো। ফাহিমা, মাহিমা, পূর্ণিমাসহ হাজারো নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো, কেউই বিচার পায়নি। বিচারের বাণী তখন নিভৃতে কেঁদেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে যেভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন করেছে, তা ৭১’এর পাক হানাদারদের নির্যাতনকেও হার মানিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিজ দলের নেতা জামাল উদ্দিনকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা। তার সেই হত্যার বিচার পর্যন্ত তারা করেনি। তাই আয়নায় তাদের চেহারা দেখা উচিৎ। বেগম জিয়া অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে ৯৮ জন মানুষকে হত্যার বিচার বন্ধে সংসদে ইনডেমনিটি বিল এনে বিচার বন্ধ করেছিলেন।’

শেখ হাসিনা সরকার যে কোনও ‘অপরাধকে অপরাধ’ হিসেবেই দেখে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতি, অনিয়ম এবং যে কোনও অপরাধের মূলোৎপাটনে সরকারের কোনও পিছুটান নেই। প্রতিটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে, বিচার হচ্ছে, কোন অপরাধীই রক্ষা পাবে না। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেকে প্রকাশ করে না। এজন্য অনেক ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। এধরনের ঘৃণা অপরাধের বিষয় গোপন না রেখে অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের জন্য যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সময়মত অবহিত করা হয়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সম্প্রতি নারীর প্রতি অবমাননা এবং সহিংসতার বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকার নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নোয়াখালীর ঘটনাসহ প্রতিটি ঘটনায় অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এসকল ঘৃণ্য অপরাধীদের কোনও দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না, দলীয় পরিচয় তাদের রক্ষার ঢাল হতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোনও আন্দোলনের আগেই সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে, এসব অপরাধ ও ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট এবং কঠোর। এসকল ঘৃণ্য অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যাবে না, যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here