মানববন্ধন থেকে তুলে নিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা লঞ্চঘাটের সামনে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধনে হামলা ও দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  লঞ্চঘাটের সামনে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে ঘাট কতৃপক্ষের লোকজন এ মারধরের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছ।

ফতুল্লা মডেল থানার মাত্র  ৫শ’ গজ দূরে সংগঠিত এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযোগ করা হলেও পুলিশ সময়মত আসেননি।  কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় গুরুতর আহতদের সঠিক সময় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীরা।

আহতরা হলেন-  ঢাকা টিএন্ডটি কলেজের মিলন ও বন্দর কদম রসূল কলেজের মাসুম।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকালের এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সারাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ নির্যাতনের বিচারের দাবিতে ফতুল্লার সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল।  সেখানে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সামিউন সিনহা ও  ইমরান হোসেন শুভ।

এছাড়া ফতুল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি ওবায়েদউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের জাহাঙ্গীর ডালিমও বক্তব্য রাখেন।

এদিকে মানববন্ধন চলাকালে ফতুল্লা লঞ্চঘাটের সামনে গাড়ি না রাখতে অনুরোধ করে শিক্ষার্থীরা।  এতে করে যানজট দেখা দিতে পারে বলে ঘাট কতৃপক্ষকে বোঝাতে থাকে।  ওই সময় তর্ক বেধে গেলে ঘাটের পাহাড়া দেয়া মুন্না বাহিনীর নেতৃত্বে  শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে মিলন ও মাসুম নামে  দুজনকে তুলে নিয়ে যায়।  এরপর পাশের একটি কক্ষে আটক রেখে মারপিট করে।

এ সময় থানায় গিয়ে খবর দেয় শিক্ষার্থীরা।  কিন্তু পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বিলম্ব করায় ওই সময়ের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারপিট করে।  এক পর্যায়ে মারধর করে হামলাকারিরা পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ আহত দুজনকে উদ্ধার করে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা শুভ জানান, তর্কের এক পর্যায়ে আমি গিয়ে হাজির হই।  ওই সময় হামলাকারিরা দুই শিক্ষার্থীকে চড় মারে।  আমি সমাধান করতে গেলে আমার ওপরও হামলা চালায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, থানায় গিয়ে সবাই দ্রুত তুলে নিয়ে যাওয়া দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে অনুরোধ জানায়, কিন্তু পুলিশ অনেক দেরী করে ঘটনাস্থলে যায়।  সময়মত গেলে হয়ত এত মার খেতে হত না।  তাদেরকে ফতুল্লা মোস্তাফিজ সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, লঞ্চঘাটের সামনে দুইপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।  বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here