বরিশালে দু’বছরেও ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে পারেনি বিআরটিএ

বরিশাল প্রতিনিধিঃ:সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনী সদস্যরা। ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে চালকদের অনেকটা চেপে ধরেছে তারা। কিন্তু সড়কে তাড়া খেয়ে লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। লাইসেন্স প্রাপ্তির সকল শর্ত পূরণের পরেও লাইসেন্স কার্ড দিতে পারছে না বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না পেয়ে ফিরে যাওয়া কয়েকজন পেশাদার এবং অপেশাদার চালক এমনই অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি- দু’বছর আগে লাইসেন্স এর আবেদন করলেও এখনো তা হাতে পাননি। তবে চালকদের এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষ।

তাদের দাবি- এ সমস্যা শুধু বরিশালের নয়, বরং সারা বাংলাদেশের। আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে কিনা তা নিয়েও সন্দিহান কর্তৃপক্ষ।

নগরীর বান্দ রোডের বাসিন্দা আল-আমিন জানান, ‘অপেশাদার চালক লাইসেন্স পেতে ২০১৮ সালে বিআরটিএ বরিশাল সার্কেলে আবেদন করেন। সরকারি সকল শর্ত পূরণের পরে একই বছরের ৭ নভেম্বর প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদন পত্র প্রাপ্তির রশিদ দেয় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। ওই সময় প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে মেসেজের মাধ্যমে লাইসেন্স বিতরণের তারিখ জানানো হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

ওই আবেদনকারী আরও জানান, ‘বিআরটিএ’র বেধে দেয়া প্রায় এক বছর সময় পেরিয়ে গেলেও কোন মেসেজ না আসায় তিনি পুরনায় বিআরটিএ বরিশাল সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে গেলে জানানো হয় তার লাইসেন্স এখনো আসেনি। এটি পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। তাই একই আবেদন পত্রের ওপর দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়া হয় বিআরটিএ কার্যালয় থেকে।

আল আমিন বলেন, বিআরটিএ’র সেবা সপ্তাহ শুরু হয়েছে এমন খবর পেয়ে দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো মেয়াদ শেষ হওয়ার চার দিন আগে বিআরটিএ কার্যালয়ে প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইন্সে গ্রহনের জন্য যাই। কিন্তু এবারও লাইসেন্স না দিয়ে বরং তৃতীয় দফায় একই কাগজের ওপর তৃতীয় দফায় ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরের জন্য সময় বাড়িয়ে দেয় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

শুধু আল আমিনই নন, এমন অভিযোগ করেছেন বিআরটিএ কার্যালয়ে প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে আসা আরও একাধিক ব্যক্তি। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, বিআরটিএ কার্যালয় থেকে যান চলাচলের জন্য দেয়া প্রাথমিক আবেদন পত্রটি হারিয়ে এবং নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘বিআরটিএ থেকে দেয়া প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনপত্রটি মানছে না সার্জেন্টরা। দিচ্ছেন মামলা ঠুকে। বিআরটিএতে গিয়ে বললে কিছু করার নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবেদনকারীদের এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হয় বিআরটিএ বরিশাল সার্কেল অফিসে। সেখানকার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কাজী সামসুল হক জানান, ‘প্রায় দুই বছর ধরে ২ হাজার ৬২২টি প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্স অপেক্ষমাণ রয়েছে। যার মধ্যে অপেশাদার লাইসেন্সের সংখ্যাই বেশি। অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স অপেক্ষমাণ রয়েছে এক হাজার ৬৪১টি এবং পেশাদার লাইসেন্স আটকে আছে ৯৮১টি। মাঝে মধ্যে পেশাদার কিছু লাইসেন্স দেয়া হলেও অপেশাদাররা একেবারেই পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরিশাল সার্কেলের উপ-পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ সমস্যা শুধু বরিশালের নয়, বরং সারা দেশের। এর কারণ পূর্বে ‘টাইগার আইডি’ নামক একটি কোম্পানি বাংলাদেশে প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহ করতো। এ কোম্পানিটির সাথে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রের চুক্তি ছিলো।

তবে বাংলাদেশের সাথে চুক্তির এক বছরের মাথায় ওই কোম্পানিকে কালোতালিকাভুক্ত করে বিশ্ব ব্যাংক। এ কারণে এক বছরের মাথায় বাংলাদেশের সাথে হওয়া চুক্তিও বাতিল করা হয়। সেই থেকেই সারা দেশে বিআরটিএ কার্যালয়ে প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অপেক্ষমাণ লাইসেন্স এর সংখ্যা দীর্ঘ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বরিশাল কার্যালয় থেকে অপেশাদার চালকদের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না বললেই চলে। তবে যাদেরটা জরুরী তাদের প্লাস্টিক কার্ড দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাও প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ হলে তিনটি লাইসেন্স কার্ড দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে চলমান এই সমস্যা চলতি বছরে শেষ হবে কিনা সে বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি বিআরটিএ’র এই কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here