কনডেম সেলে যুক্ত হলেন মিন্নি

বরগুনা প্রতিনিধি:ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের কনডেম সেলে রাখার নিয়ম। সেই নিয়ম অনুসারে কনডেম সেলে বাসিন্দা হলেন বরগুনা রিফাত হত্যা মামলার আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। বর্তমানে দেশে ৪৯ জন নারী ফাঁসির দণ্ড নিয়ে কনডেম সেলে আসেন। তবে বরগুনা জেলে মিন্নি একাই কনডেম জেলের বাসিন্দা।

গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই কারাগারে একমাত্র নারী ফাঁসির আসামি হওয়ায় তিনি একাই কনডেম সেলের বাসিন্দা।

এ বিষয় জানতে চাইলে বরগুনা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ফাঁসির আসামি হিসেবে তাকে (মিন্নি) কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কারাগারের নারী ইউনিটে ১৯ জন বন্দি ছিল। মিন্নিকে নিয়ে ২০ জন হলো।

দেশে সবচেয়ে বেশি নারী ফাঁসির আসামি রয়েছে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে। এই কারাগারের জেলার হাসনাত জাহান জানান, কারাগারটিতে ২৩ জন ফাঁসির আসামি রয়েছে।

কিছুদিন আগে ২৪ জন ছিল, এর মধ্যে একজনের দণ্ড কমে যাবজ্জীবন হয়ে যাওয়ায় এখন ২৩ জন রয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, কারাগারগুলোতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে কনডেম সেলের বাসিন্দা। দেশে বহু পুরুষ আসামির ফাঁসি কার্যকর হলেও কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এক কারারক্ষী জানান, তিনি ২৮ বছর ধরে চাকরি করছেন, আজ পর্যন্ত কোনো নারী আসামির ফাঁসি হয়েছে, এমন কথা শোনেননি।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নারী আসামিদের মধ্যে সবাই হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। কলহের জের ধরে নিজ পরিবারের কোনো সদস্যকে হত্যার দায়েই ফাঁসির দণ্ড পেয়েছে এদের বেশির ভাগ।

কারা সূত্র জানায়, প্রতিটি কনডেম সেল কমবেশি ১০ হাত দৈর্ঘ্য ও ছয় হাত প্রস্থের হয়। প্রতি সেলে তিন-চারজন করে ফাঁসির আসামিকে রাখা হয়। প্রতি সেলে গ্রিলঘেরা বারান্দা রয়েছে। ওই বারান্দাতেই তাদের হাঁটার সুযোগ মেলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থাকতে হয় সেলের ভেতর ও বারান্দায়। এক কারা কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোসল করার জন্য তাদের বের হতে দেওয়া হয়। গোসলের আগে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে তাদের।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা মাসে এক দিন সুযোগ পায় তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার। তখন তারা সেল থেকে বেরিয়ে কারাগারের গেটে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে।

সূত্র জানায়, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here