ডাক্তার পরিচয়ে ফেসবুকে বিয়ে, অতঃপর সিআইডির হাতে ধরা

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃমেয়েটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছয় মাস আগে মেয়েটি তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি অপরিচিত আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পায়। রিকোয়েস্ট দেওয়া ফেসবুক আইডিটি একজন ডাক্তারের। যিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন করছেন। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণ করেন। প্রথমে ফেসবুকে চ্যাটিং পরবর্তীতে ফোনালাপ আর এভাবে করেই মেয়েটির সঙ্গে ডাক্তার নামধারী ওই ব্যক্তির সুসম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে এই সম্পর্ক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

মেয়েটিকে ডাক্তারনামধারী ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই সে মেয়েটির বাসায় এসে বিয়ের প্রস্তাব দেবে এবং তার সাথে আত্মীয়-স্বজনসহ তার ডাক্তার ফ্রেন্ড সার্কেলে অনেকে আসবেন বলে জানায়। এমনকি ওই ব্যক্তির সঙ্গে মেয়ের বাবা-মা এবং কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয়। মেয়েটির পরিবার বিয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এরই মাঝে এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির জানায়, সে কানাডাতে স্কলার্শিপের আবেদন করেছিলেন এবং বাংলাদেশ থেকে যে কয়েকজন সিলেক্টেড হয়েছে। কানাডায় সিলেক্ট হওয়ার মধ্যে সেও একজন।

বিয়ে করে দ্রুত কানাডাতে স্থায়ী হতে হবে। যেহেতু সে একজন গরীব ফ্যামিলির সন্তান সুতরাং তার পক্ষে বর্তমানে ভিসাসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আর তাই এখনই বেশ কিছু টাকা প্রয়োজন। এভাবেই মেয়েটিকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রতারিত করে ওই ব্যক্তি ধাপে ধাপে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে প্রতারক মেয়েটির সাথে যোগাযোগের যাবতীয় মাধ্যম ব্লক করে দেয়। মেয়েটিও তার পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিয়ে বুঝতে পারে যে তারা প্রতারিত হয়েছেন।

পরবর্তীতে তারা সাইবার পুলিশ সেন্টার সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সাইবার পুলিশ সিআইডি অভিযোগ পাওয়ার পর প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে অনুসন্ধানের পর ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামিকে শনাক্ত করা এবং মামলার পর সিআইডির সাইবার মনিটরিংয়ের একটি বিশেষ টিম অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমান ওরফে শাওনকে রাজশাহী থেকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে এপ্রন, দুটি মোবাইল সেট, সিম কার্ড, ভুয়া ফেসবুক আইডি ও তিনটি বিভিন্ন ডাক্তারি পরিচয়ে ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে। সেখানে মেয়েটি ছাড়াও আরও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

গ্রেফতার শাওনকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং তার ডিভাইস পরীক্ষা করে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে বিভিন্ন ডাক্তারের ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।

প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাকরি দেয়ার কথা বলেও টাকা নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ভিকটিম মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর পল্টন মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার মনিটরিং, সিপিসি) রেজাউল মাসুদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, গ্রেফতার মো. মিজানুর রহমান ওরফে শাওন মেয়েদের সঙ্গে ফেসবুকে সম্পর্ক করে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এমনকি ফেসবুকে শুধুমাত্র কলেমা পড়ে অসংখ্য মেয়েদের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক করতেন। এরপর মেয়েদের নুডস ছবি নিয়ে পরবর্তীতে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিং করেও টাকা হাতিয়ে নিতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here