বরিশালে ডা. আজাদ হত্যার রহস্য উদঘাটনে উদাসীনতা

বরিশাল প্রতিনিধি:বরিশাল নগরীর কালিবাড়ী রোডের মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ডা. আজাদের লাশ উদ্ধারের ৫ মাস অতিক্রম হতে চলেছে।  দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে তার মৃত্যুর রহস্য উদঘটন তো দূরের কথা সামান্য ক্লু পর্যন্ত বের করতে পারেনি পুলিশ।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এম এ আজাদের মৃত্যু রহস্য উদঘটন নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ যখন অনেকটা অন্ধকারে। ঠিক তখনই সেই অন্ধকারে সামান্য আলো জ্বলাতে এসেছে ডা. আজাদের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন।  কয়েকদিন আগে এ হত্যা মামলার ময়না তদন্ত পুলিশের কাছে এসে পৌঁছায়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এ আর মুকুল।।  তবে রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ কি উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।

তিনি বলেন, সবে মাত্র রিপোর্ট পেলাম।  এখন তা নানা ভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে।  এদিকে মামলার বাদী ডা. আজাদের ভাই ডা. শাহরিয়ার উচ্ছাস অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ এতদিন বলে আসছিলো পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট পেলেই মত্যুর কারণ উদঘটন করাসহ মামলা তদন্তে গতি আসবে।

কিন্তু রিপোর্ট আসার পরও পুলিশের এমন আচরণ আমাদের আশাহত করেছে এবং সন্দেহের দুয়ার উন্মোচিত করেছে।  উচ্ছাস অভিযোগ করে বলেন, দিনে দুপুরে নগরীতে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু ঘটলো।  সে মৃত্যু রহস্য উদঘটনে কারো যেন কোন দায়ই নেই।  মিডিয়া স্বপ্রনোদিত হয়ে কোন সংবাদ প্রকাশ করছে না।  পুলিশও রিপোর্টের অপেক্ষায় বসে থাকে।  তিনি আক্ষেপ করে বলেন রিপোর্ট ছাড়া পুলিশ রহস্য উন্মোচন করে না? তিনি হতাশার সুরে বলেন, সব কিছু দেখে মনে হয় সবাই যেন কোন মহলের কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছে।

তথ্য মতে গত ২৮ এপ্রিল নগরীর কালীবাড়ি রোডে মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ডা. আজাদের মরদেহ।  এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ার উচ্ছ্বাস অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুলকে।  কিন্তু মাসের পর মাস তদন্ত করেও তদন্তকারী দল ডা. আজাদের মৃত্যু রহস্য বের করতে ব্যর্থ হয়।  বিষয়টিকে ক্লু লেস আখ্যা দিয়ে ময়না তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকে তারা।  এদিকে মৃত্যুর পরপরই বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আসছিলো মামলার বাদী ও ডা. আজাদের পরিবার।

উল্লেখ্য ডা. এম এ আজাদের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সোহাগদল গ্রামে।  তিনি মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের সাত তলার একটি ইউনিটে থাকতেন।  তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান ঢাকার কেরানীগঞ্জে বসবাস করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here