সরকারি হাসপাতালের বেডে বিড়াল, বারান্দায় রোগীরা

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ:প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর বিশেষ নজরদারি রেখেছেন। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলছেন চিকিৎসা সেবা থেকে যেন সাধারণ মানুষ বঞ্চিত না হয়, স্বাস্থ্য খাতে কোনোও ত্রুটি না থাকে। ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এমনই অভিযোগ চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অসংখ্য রোগী ও তাদের পরিবারের।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ঘুরে দেখা যায় কিছু আশ্চর্য চিত্র। হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারী ও ডাক্তারদের অবহেলায় দিনদিন নষ্ট হচ্ছে সরকারি এই হাসপাতালের সুনাম। হাসপাতালের ৪র্থ তলার গুরুত্বপূর্ণ সার্জারি বিভাগে গিয়ে দেখা মেলে ড্রেসিং বেডে শুয়ে আছে বিড়াল আর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা শুয়ে আছেন হাসপাতালের বারান্দায়।

হাসপাতালের কয়েকজন নার্সকে এমন চিত্রের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, আমরা নার্স হিসেবে এই হাসপাতালে কর্মরত আছি, রোগীদের সেবা দেওয়াই আমাদের কাজ, কোথায় বিড়াল আর কোথায় কি সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন জানিয়ে বিষয়টি এরিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। যেন বিষয়টি নিত্যদিনের রুটিন ওয়ার্কে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী বলেন, আমরা গরীব অসহায় সাধারণ মানুষ, টাকার অভাবে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে পারি না। তাই এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছি। কিন্তু এই সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারা আমাদেরকে মানুষই মনে করেন না। আমরা মানুষ হয়ে শুয়ে আছি বারান্দায় আর বিড়াল শুয়ে আছে বেডে। এটা দেখে আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে।

ড্রেসিং বেডে বিড়াল শুয়ে থাকাটা দুঃখজনক উল্লেখ করে তারা বলেন, যদি বিড়ালের লোম কোনো ড্রেসিং করার সময় ক্ষতস্থানে রয়ে যায় সে ক্ষেত্রে ক্ষতের ইনফেকশন হবারও ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও ক্ষতির আশঙ্কা করেন তারা।

গণমাধ্যম কর্মীর উপস্থিতি দেখে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক রোগীর স্বজনেরা অনেকটা চাপা কষ্ট ও ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা রোগী ভর্তি করেছি কিন্তু এখন কোনো ডাক্তার রোগীর কাছে আসেনি। আমাদের রোগীরা বারান্দায় শুয়ে আছে আর বিড়াল বেডে শুয়ে রয়েছে। এটা সরকারের কর্মকর্তাদের অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমনকি হাসপাতালের টয়লেট গুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী দাবি করে তারা বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি টয়লেটের মধ্যে পঁচাবাসি ভাতের স্তুপ করা। অন্যগুলাও ব্যাবহারের অনুপযোগী। এখানে আসলে নিতান্তই বাধ্য হয়ে আসতে হয় বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে বিড়াল আসবেই, আমরা তো আর সবসময় বিড়ালকে পাহারা দিতে পারবো না। তবে বিড়ালটি যে বেডে শুয়ে আছে সেই বেডটা ড্রেসিংয়ের জন্য।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবাধয়কের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here