জোয়ারের পানিতে দুষিত হচ্ছে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকা

শামীম আহমেদ, বরিশাল:‘শহর রাখবো পরিষ্কার, গড়বো আগামীর বরিশাল’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নগরীতে শুরু হয় মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বিসিসি’র নেয়া এই উদ্যোগকে ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক রূপ দেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হন জনপ্রতিনিধিরাও। এরই অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে ওয়ার্ডভিত্তিক ৩০টি গ্রুপ গঠন করা হয়। সে সময় মূল ড্রেনসহ প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেন পরিষ্কার করে সচল করা হয়েছিল। এছাড়া বর্ষা মৌসুমেও নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনগুলো পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজও হাতে নেয়া হয়। মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সুফল সে সময়ে অনেক পেয়েছে নগরবাসী।

গত ও বর্তমান চলতি বছরের টানা বৃষ্টিপাতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। উপচে পড়ছে ড্রেনের আবর্জনা মিশ্রিত পানি। নগরীর নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত কীর্তনখোলার তীরের জনপদ সাগরদী ধান গবেষণা সড়ক, পূর্ব রূপাতলী, জাগুয়া, আমানতগঞ্জ, পলাশপুরসহ বহু এলাকা হাঁটু পানিতে নিমগ্ন। সর্বাধিক সংকটে পড়েছেন কীর্তনখোলা তীর সংলগ্ন রসুলপুর, পলাশপুর, বরফকল ও স্টেডিয়াম বস্তির বাসিন্দারা।

এসব অঞ্চলের আশেপাশের খাল এবং ড্রেনগুলোতে বর্জ্য আটকে থাকায় ভাটির টানে পানি বেরিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি হয়। যে কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুম জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপদীমা অতিক্রম করেছে। গত বুধবার কীর্তনখোলার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ছিল। যেহেতু বরিশাল নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা খালের মাধ্যমে নদীর সাথে যুক্ত, তাই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল থাকলে এই অবস্থার অনেকটাই নিরসন হত বলে জানান তিনি।

বিসিসি সূত্র জানায়, মেয়র কর্তৃক ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর মাসব্যাপী পরিচ্ছন্ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডেও সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তবে ৯ জানুয়ারি থেকে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের অগ্রাধিকার হিসেবে তারা ড্রেন পরিষ্কার শুরু করেন।

একই সাথে জনসচেতনতা তৈরিতে তারা স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়ির মালিক এবং পথচারীদের সাথে কাউন্সিলিং করেছেন। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিষ্কারের পাশাপাশি ড্রেনগুলোর সংস্কারের কাজও করা হয়। পূর্বে ড্রেনের স্লাবগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি থাকায় আবর্জনা পরিষ্কারে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হত। তাই সেবার ৫ ফুট অন্তর নতুন করে স্লাব তৈরি হয়েছিল। তবে যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে ড্রেনগুলো দ্রুতই ভরে যাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর অসচেতনতাকেই দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা সদররোড, গ্রিজ্জামহল্লা, চকবাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের যথেচ্ছ ব্যবহারে মূল ড্রেনগুলো করুণ দশায় পরিণত হয়েছে। অপরদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারে নাজুক ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে শহরের প্রানকেন্দ্র (আগুরপুর) সাংবাদিক মাইনুল হাসান সড়কে রয়েছে এতিহ্যবাহী বরিশাল প্রেস ক্লাব ও সরকারি মহিলা কলেজ।

সামান্য বৃষ্টি হলে এ সড়কে হাটু সমান পানি জমে যায়। এছাড়া অলিগলির ড্রেন স্থানীয়রা প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ নানা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলছেন। এসব কারণে জোয়ারের পানি শহরে ঢুকলেও আবার নেমে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। নগরবাসী তাই বছরে অন্তত ২ বার মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। এসব বিষয়ে জানতে বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ছুটিতে আছেন বলে এড়িয়ে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here