সিনহা হত্যা মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

কক্সবাজার প্রতিনিধি:কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে স্বেচ্ছায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার সদ্য সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টার পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারের ফটকে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব-১৫’র তদন্ত দল।

সাত দিন করে রিমান্ডে নেয়া তিন আসামি টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, বরখাস্ত টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে রবিবার র‌্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার রিমান্ডের আদেশ প্রাপ্ত ৭ আসামির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জেলা কারাগারে পৌঁছেছে। ফলে কারাফটকে র‌্যাব সদস্যরা চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। রবিবার সাতদিনের রিমান্ডের আদেশপ্রাপ্ত আসামিদের র‌্যাব হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়িাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

৬ আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে আত্মসমর্পন করেন। মামলার শুনানীতে র‌্যাবের পক্ষে প্রত্যেক আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ এবং এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চার আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আদালত। অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here