নদীতে গেছে ঘর, বাঁচার চিন্তায় বিভোর!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তৃতীয় দফায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৮৪ এবং কাজিপুর পয়েন্টে ৯২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধিতে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা বাঁধগুলোতে রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন। এতে তৃতীয় দফা বন্যায় জেলার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিৎ কুমার সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ৮৪ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ৯২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার কাজীপুর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, সদর, চৌহালী ও তাড়াশ উপজেলার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি ও নদী ভাঙন কবলিত মানুষ বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ছোনগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে (২৪ জুলাই) সব চেয়ে বেশি ভাঙনের তাণ্ডব চলে। মুহূর্তের মধ্যে শতাধিক ঘর বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করি। পরে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা ফেলছেন।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হায়দার আলী, বলেন, ভাঙনে আমার পরিবারের বসত বাড়ি, আসবাপত্র, গবাদি পশু, নগদ টাকা সব কিছু নদীতে ধসে পড়েছে। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। এখন আমি নিঃশ্ব। বসবাসের শেষ আশ্রয় টুকু নদীর পেটে। এখন বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছি।

এবারের বন্যায় জেলার ৬৪টি ইউনিয়নের ৮০৪টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৩৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ্য এবং ৪১ হাজার ১৪৯ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪০১৩ হেক্টর ফসলী জমি, ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩৯.৬ কিলোমিটার বাঁধ, ৯টি ব্রীজ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাস কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, তিনদফা বন্যায় জেলার সাড়ে ৪লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে জিআর ক্যাশ ১৩ লক্ষ টাকা, জিআর চাল ৫০০ মেট্রিক টন, গো খাদ্যের জন্য ৬ লাখ টাকা শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ৪ লাখ টাকা এবং শুকনা খাধ্য ৮ হাজার প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here