চারজনকে হত্যা, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে আব্দুল গনির পরিবারের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে নিহত আব্দুল গণির বড় মেয়ে সোনিয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখা কাজ করছে।

মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল জানান, লাশগুলো আব্দুল গনি মিয়ার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে নিহত গনি মিয়ার বড় মেয়ে সোনিয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটির বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ চলছে। দ্রুতই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হবে।

তিনি আরো জানান, শনিবার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম জানান, মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৈয়দ রানা কবিরের নেতৃত্বে চার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

সৈয়দ রানা কবির জানান, আলামত দেখে বোঝা গেছে দুই-তিন দিন আগে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের সবার মাথায় রক্ত জমাট বাধা ছিলো। হত্যাকাণ্ডের আগে ওই চারজনকে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিলো কিনা তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও নিহত মা ও মেয়েকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষার জন্যও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহত আব্দুল গনির পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য মধুপুর নিয়ে যাওয়া হয়। গনির পারিবারিক সূত্র জানায়, তাদের পৈত্রিক বাড়ি মধুপুরের গোলাবাড়িতে লাশগুলো দাফন করা হবে। এ ঘটনায় নিহত আব্দুল গণির স্ত্রী তাজিরন বেগমের তিন ভাই জামাল, সাইফুল ও সালামকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের এসপি সঞ্জিত কুমার রায় জানান, পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করছে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, চুরি বা ডাকাতি করতে এসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেনি বলে তারা মনে করছেন। কারণ চারজন মানুষ হত্যার শিকার হলেও লুটপাটের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা, সুদের ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং নারী সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এই তিন বিষয়কে সামনে নিয়ে তদন্ত কাজ চলছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে মধুপুর উপজেলা সদরের মাস্টারপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী আব্দুল গনি, তার স্ত্রী তাজিরন বেগম, ছেলে কলেজছাত্র তাজেল ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here