চাল বিতরণে অনিয়ম: ছাড় পাচ্ছেন না চেয়ারম্যান-মেম্বাররা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ করোনার সময়ে মানবিক সাহায্য অব্যাহত রেখেছে সরকার। তবে এ কার্যক্রমে অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে। আর এসব ক্ষেত্রে জড়িত স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। তবে অনিয়ম করে ছাড় পাচ্ছেন না এসব জনপ্রতিনিধিরা।
৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সারাদেশে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার ৪৫১ মেট্রিক টন।

এসব চাল বিতরণে অনিয়মের ঘটনা ঘটিয়েছেন অনেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এজন্য শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৃণমূল পর্যায়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে, কোথাও কোথাও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

চিঠিতে আরো বলা হয়, এরূপ অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে এ ধরনের অভিযোগে মোট এ পর্যন্ত ১১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৬ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৬৯ জন ইউপি সদস্য, এক জন জেলা পরিষদ সদস্য, চার জন পৌর কাউন্সিলর এবং একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং তিনজন ইউপি সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান হলেন- মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার ২নং তালখড়ি ইউনিয়ন পরিষদের মো. সিরাজ উদ্দীন মন্ডল। ভিজিডি কার্ডের চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে মজুদ রাখার অভিযোগ তাকে বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ১১ নং পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজন শেখ (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন) এবং একই জেলার কালিয়া উপজেলার বাইসোনা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. রকিত শেখ ও ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলাধীন ১২নং আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোছা. রাশিদা খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) মামলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যেখানেই ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম পাচ্ছি, সেখানেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। অনিয়ম বা ত্রাণ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বেশকিছু জনপ্রতিনিধিকে এরইমধ্যে বহিষ্কার করেছি। এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, শুধু বহিষ্কার নয় নিয়ম অনুযায়ী তাদের ফৌজদারি আইনে মামলার মুখোমুখিও করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে অনিয়ম ঠেকাতে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here