ক্যানসারের নকল ওষুধে কোটিপতি, ধরা পড়ে তথ্য ফাঁস

দিনাজপুর প্রতিনিধি:জীবন রক্ষাকারী ওষুধও কোনো কোনো সময় মৃত্যু ঘটায়। চকচকে মোড়ক আর হলোগ্রাম লাগানো সে ওষুধ যখন হয় নকল তখনই জীবন রক্ষার বিপরীতে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নামিদামি কোম্পানির এসব ওষুধ বাইরে থেকে দেখে বোঝা সম্ভব হয়না আসল কি নকল।

জীবন মরণের সন্ধিক্ষণ ক্যানসারে আক্রান্তরা জীবন রক্ষার্থে যেসব ওষুধ গ্রহণ করেন খোদ সে রকমই নকল ওষুধ তৈরির ঘটনায় এমন এক প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এরইমধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা থেকে খানজার আলী মামুন নামে ওই চক্রের হোতাকে আটক করেছেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা।

ডিবি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি বাড়িতে অফিস বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেমিকেল ও রাসায়নিকের ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন কোম্পানির ক্যানসারের নকল ওষুধ তৈরির পর তা দেশ বিদেশে সরবরাহ করে আসছিলো আটক হওয়া মামুনসহ এ চক্রের অন্য সদস্যরা। এসব ওষুধের চাহিদাও রয়েছে বাজারে তুঙ্গে। যার প্রতিটির দাম ১৮ হাজার এবং এক পাতার মুল্য ৮০-৯০ হাজার টাকা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি ডিবি পুলিশ মোহাম্মদপুরের হুমায়ন রোডের ওই অফিসে অভিযান চালিয়ে ইমরান নামে একজনকে আটক করে। এর পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ জুলাই গভীর রাতে পার্বতীপুর উপজেলার জাহানাবাদ গ্রাম থেকে খানজার আলী মামুনকে আটকের পর ঢাকা মতিঝিল মিন্টু রোডের অফিসে নিয়ে যান ডিবি পুলিশের সদস্যরা। মামুন পার্বতীপুর পৌর এলাকার সাহেব পাড়া মহল্লার সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

ইমরানও একই এলাকার আব্দুল মতিন সরকারের ছেলে ও মামুনের খালাতো ভাই। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার মামুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবি পুলিশের নির্দেশে দীর্ঘ ৯৬ ঘণ্টা পর পার্বতীপুরের সংবাদকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোখলেছুর রহমান।

খানজার আলী মামুন ঢাকা কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করেন। এলাকায় মামুন অল্প সময়ে বিভিন্ন সামাজিক কাজে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে কোটিপতি হিসেবে লোকমুখে পরিচিতি ঘটান। সেসঙ্গে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ি বাইপাস সড়কের পাশে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি কেনা, বছির বানিয়া এলাকায় অল্প কিছু দিনের মধ্যে ইটভাটাসহ বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি চলাফেরার ক্ষেত্রে প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার শুরু করে মামুন। এসবের মাধ্যমে তার অবৈধপথে উপার্জিত কোটিপতির হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

এলাকাবাসী জানান, মামুনের বাবা আবুল কালাম আজাদ ছোটো খাটো ব্যবসা করে জীবন যাপন করতেন। হঠাৎ কোটিপতি ও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ায় আটকের পর এলাকায় খানজার আলী মামুনকে নিয়ে নানা কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here