উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ইসলাম সমর্থন করে না

নিউজ ডেস্কঃ উগ্রতা, সন্ত্রাস, তথাকথিত জিহাদ করে ইসলামকে এগিয়ে নেয়ার কোনো নির্দেশনা, অনুমতি পবিত্র কোরআনে কিংবা সহিহ হাদিসের কোথাও উল্লেখ নেই।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। মানবতার ধর্ম। উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, খুন-খারাবি, ছিনতাই, দুর্নীতিকে কখনো ইসলাম সমর্থন করে না।

ভ্রান্ত পথের ভ্রষ্ট ‘আক্বীদায় বিপদগামী কিছু তরুণ-যুবক ইসলামের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে উগ্রতাকে লুফে নিয়েছে জান্নাত প্রাপ্তির আশায়। আসলে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা কোরআন সুন্নাহর জ্ঞানে অপরিপক্ক ও নির্বোধ। তাদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করে ধোঁকায় ফেলে তথকথিত জিহাদের প্রলোভনে আকৃষ্ট করা হয়।

ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জুলুম ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ

‘ফিতনা বা সন্ত্রাস হত্যার চেয়েও ভয়াবহ।’(সূরা: আল বাকারাহ, আয়াত: ১৯১)।

মানুষ হত্যা নিষেধ করে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,

أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا

‘কেউ কাউকে নরহত্যার অপরাধ অথবা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির কারণ ব্যতীত হত্যা করলে সে যেন গোটা মানবতাকে হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণ বাঁচালে সে যেন গোটা মানবজাতিকে বাঁচাল।’ (সূরা: আল মায়িদাহ, আয়াত: ৩২)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শেষ জামানায় এমন একটি গোষ্টির আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে বয়সে নবীন, বুদ্ধিতে অপরিপক্ক ও নির্বোধ। তারা পবিত্র কোরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কন্ঠনালীও অতিক্রম করবে না। (অর্থাৎ-হৃদয় স্পর্শ করবে না) তারা সৃষ্টির সেরা মানুষের কথাই বলবে কিন্তু দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। (আত তিরমিযী)।

বিদায় হজের সময় মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করে নবী (সা.) বলেন, শুনে রাখো! মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। সাবধান! আমার পরে তোমরা একজন আরেকজনকে হত্যা করার মতো কুফরী কাজে লিপ্ত হয়ো না। আল্লাহ তায়ালা এবং নবী (সা.) এর সতর্ক বানী মান্য করে চললে সমাজের বুকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকানণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। উগ্রতা, যুলুম, সন্ত্রাস পরিহার করে হিকমাত ও কৌশল প্রয়োগ করে বিনয়-নম্রতা সহকারে মানুষকে মহান আল্লাহর পথে আহ্বান করাই শ্রেষ্ঠ দাওয়াত।

ইসলামে কোনো জবরদস্তির বিষয় নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

لاَ إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ

‘দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই।’ (সূরা: আল বাকারাহ, ২৫৬)।

নীতি, কর্ম আদর্শ ও দর্শনে একপেশে নয় ও চরম পন্থাও নয় বরং ভারসাম্যপূর্ণ থাকাটাই মুসলিমের তথা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ

‘যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুগঠিত করেছেন এবং তোমাকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন।’ (সূরা: আল ইনফিতার, আয়াত: ৭)।

ইবাদতের ক্ষেত্রেও মুমিনের জন্য একটা ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে। কোনো ব্যাপারেই অতিরঞ্জন আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না। সংসার বিবাগি হয়ে সন্ন্যাসী জীবনও যেমন কাম্য নয় তেমনি দ্বীনের ইবাদত থেকে সম্পূর্ণ গাফেল হয়ে মহান আল্লাহকে অমান্য করে কুফরীর জীবন বাঞ্ছীনীয় হতে পারে না। সংসার, পরিবার, পরিজন সমভিব্যবহারে সবার প্রতি যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়েই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

ادْعُواْ رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لاَ يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ

‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাক বিনীতভাবে ও গোপনে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা: আল আরাফ, আয়াত: ৫৫)।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসীকে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, খুন-খারাবি, ছিনতাই, দুর্নীতি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here