করোনায় ৯৫% পরিবারের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত, কম খেয়ে ৫৮% পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধিঃদেশজুড়ে মহামারি করোনা ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবারের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শিশু, বিশেষত যারা শহর বা গ্রামের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রকাশিত বাংলাদেশ নিয়ে কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের ৮ বিভাগের ৫২টি উপজেলার ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১ হাজার ৬১৬ জন শিশু ও ২ হাজার ৬৭১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে র‌্যাপিড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে সরকার ঘোষিত প্রায় ৯০ দিনের লকডাউনে কার্যত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। এতে করে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবারের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে দৈনিক রোজগার বা ব্যবসা বন্ধ থাকায় ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমেছে।

এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ভিশনের অন্তর্বর্তীকালীন ন্যাশনাল ডিরেক্টর চন্দর গোমেজ বলেন, ‘আমরা শঙ্কিত। বিশেষত, ৫ বছরের কম বয়সী সেই শিশুদের নিয়ে যারা অপুষ্টির মতো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে আছে। যা দেশের শিশুমৃত্যুর হার আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ২৬ জেলার ৫৭টি উপজেলায় আমাদের কর্ম এলাকাগুলোতে দেখেছি খাদ্য সংকটের কারণে অপুষ্টির মতো সমস্যাগুলোতে শিশুরা অধিক মাত্রায় সংক্রমিত হচ্ছে।’

ওয়ার্ল্ড ভিশনের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জরিপ এলাকার ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে খুব সামান্য অথবা কোনও খাবার সঞ্চিত নে।ই যেখানে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু এবং ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ দুবেলা খেতে পারছেন। এছাড়া খুব কম খাবার খেয়ে দিন পার করছেন দেশের ৫৮ শতাংশ পরিবার।’

এছাড়াও প্রায় ৩৪ শতাংশ পরিবার রান্না, ধোয়া-মোছা ও পান করার জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে না। অন্যদিকে ৫০ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ ও পরিষ্কার পানির অপর্যাপ্ততার কারণে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারছে না বলেও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নেতা লাখ লাখ রোহিঙ্গা পরিবারে শিশু ও তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here