শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ালেন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি!

যশোর প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছায় এক ব্যক্তির নতুন করে করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। তিনি যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ (সুইপার) হিসেবে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে কর্মরত এবং চৌগাছা শহরের ঋষিপাড়ায় তিনতলা একটি নিজস্ব বাসভবনে বসবাস করেন।

চৌগাছায় এর আগে সংক্রমিত চিকিৎসক ও নার্সসহ ১৬ জনকেই করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

মোবাইল ফোনে ওই ব্যক্তি জানান, গত ৩/৪দিন আগে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি একজন ক্রিটিক্যাল রোগীকে মাস্ক পরাতে গেলে ওই রোগী হাঁচি দেন। ওইদিন রাত থেকেই তার জ্বর জ্বর ভাব, কিছুটা গলায় ব্যথা ছিল। পরে হাসপাতালের অন্যদের সঙ্গে বুধবার তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। তার নমুনা পাঠানো হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে। সেখানে বৃহস্পতিবারের পরীক্ষায় তার নমুনা পজিটিভ হয়।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে তাকে মোবাইল ফোনে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি ধারণা করছেন ওই রোগীর হাঁচি থেকেই তিনি সংক্রমিত হয়েছেন।

তার প্রতিবেশিরা জানান, করোনা নিয়েই তিনি বুধ ও বৃহস্পতিবার চৌগাছা থেকে মোটরসাইকেলে করে যশোর গিয়ে হাসপাতালে ডিউটি করেছেন। নিজের বাড়িতে বিভিন্ন রোগীর ড্রেসিংসহ নানা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এই দুদিনও সকালে ও রাতে তিনি একইভাবে অন্তত ২০/৩০ জন রোগীকে নিজ বাড়িতে ড্রেসিং করেছেন ও চিকিৎসা দিয়েছেন।

তারা জানান, শুক্রবার সকালেও মোটরসাইকেলে চড়ে চৌগাছা শহরময় ঘুরে বেড়িয়েছেন ওই ব্যক্তি। মোটরসাইকেলে তার সঙ্গে ছেলেও ছিল। চৌগাছা বাজার থেকে সবজিসহ নিত্য ব্যবহার্য্য সামগ্রী ক্রয় করে বাসায় গিয়েছেন।

এরপর বেলা ১১ টার দিকে যশোর হাসপাতাল থেকে তাকে ফোন করে তিনি করোনা পজিটিভ জানানোর পর তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার চৌগাছা হাসপাতালে তার স্ত্রী ওটিতে আয়া হিসেবে ডিউটি করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

ওই ব্যক্তির প্রতিবেশিরা বিকেল চারটায় এ প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন ওই ব্যক্তির বাড়ির লোকজন কারো কথা না শুনে এখনো বাড়ির বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, হাসপাতালের স্টাফ এবং তার স্ত্রী চৌগাছা হাসপাতালের আয়া। সংবাদ পেয়ে মোবাইলে তাকে বাড়িতে থাকার জন্য বলে দিয়েছি। তার স্ত্রী বৃহস্পতিবারও হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ২/৩টি অপারেশনে চিকিৎসকদের সহযোগী ছিলেন। অফিসেও এসেছিলেন।

শনিবার সবাই তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে একইসঙ্গে তার বাড়িও লকডাউন করা হবে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here