চাঁদা না পেয়ে প্রতিবন্ধীর ঘর ভেঙে দিলেন ইউপি সদস্য

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ইউপি সদস্যকে চাঁদা না দেয়ায় বিধবাদের নির্মাণাধীন বসত ঘর ভাঙচুর ও মারপিটেরর অভিযোগ উঠেছে।

বিচার চেয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী গৃহহীন বিধবা মোছা. সমর্ত খাতুন ও বধির প্রতিবন্ধী মল্লিকা খাতুন ।

মঙ্গলবার উপজেলার তালম ইউপির খোশালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে ।

বিধবা গরিব অসহায় ভূমিহীন মোছা. সমর্ত খাতুন ও বধির প্রতিবন্ধী মল্লিকা খাতুন খোশালপুর গ্রামের কফিল উদ্দিনের দুই মেয়ে। তারা এতদিন অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।

কান্না জড়িত কন্ঠে তারা বলেন, দুই বোন বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা তুলে খাস জায়গার ওপর ছয় মাস আগে মাটি ভরাট করি। মঙ্গলবার ওই জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে তালম ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রহমত আলী ও মকছেদ তালুকদারের ছেলে আলতাফ তালুকদার লোকজন নিয়ে এসে চাঁদা দাবি করে।

ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকী দেয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ভূমি অফিসের লোকজন নিয়ে এসে নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুর করে এবং মারধর করে টিন, খুঁটি নিয়ে চলে যায়। এই গ্রামে অনেকেই খাস জায়গায় বাড়ি করে বসবাস করে আসছে। আমরা অসহায় বলে আমাদের উপর এতো অত্যাচার করেছে।

খোশালপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ইসমতয়ারা বলেন, রহমত মেম্বার সরকারি খাস জায়গায় ঘর তুলে দিয়ে জহুরুল ইসলামের কাছে থেকে ২০ হাজার টাকা, আব্দুল আজিজের কাছে থেকে ২৫ হাজার টাকাসহ আরো কয়েকজনের কাছে থেকে টাকা নিয়েছেন। এদের কাছ থেকেও টাকা চায়। কিন্তু তারা টাকা দিতে পারে না বলে তাদের ঘর ভেঙে দেয় এবং মারধর করে।

মুঠোফোনে তালম ইউপি সদস্য মো. রহমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। সামনে সামনি বক্তব্য দিবেন বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

তালম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, এ্যাসিল্যান্ড নির্দেশ দিয়েছেন। তাই নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে দিয়েছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও ইফফাত জাহান বলেন, অভিযোগ পত্রটি পেয়েছি। বিষয়টি দেখার জন্য সহকারি কমিশনার ভূমিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here