বরিশালে ভাড়ার জন্য চাপাচাপি, পিষ্ট হচ্ছে ভাড়াটিয়ারা

মো:আরিফ হোসেন,অতিথি প্রতিবেদক: মাস শুরু না হতেই ভাড়ার টাকার জন্য জন্য চাপাচাপি শুরু করেছেন বরিশাল শহরের ভবন/ফ্ল্যাট মালিকরা। এতে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে হাজার হাজার ভাড়াটিয়া। বাড়ি মালিকের ভয়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর থাবায় পুরো বিশ্ব যেখানে থমকে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ি ভাড়ার চাপে দিশেহারা বরিশাল শহরের মধ্যবিত্ত, দিনমজুরসহ অনেক ভাড়াটিয়ারা। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ। সূত্র বলছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত মানুষ। এর মধ্যে বেশি ভাগ লোকই অন্যের ঘরে ভাড়ায় থাকেন। লকডাউনের প্রভাবে যখন দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট, ঠিক সেই মুহূর্তে বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান ও বাসা ভাড়ার চাপে ভুলে গেছেন করোনাভাইরাসের কথা। বাধ্য হয়ে অনেকেই রাস্তায় নেমেছে ভাড়া যোগানোর আশায়। দু’দিন পর্যন্ত বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকার ভাড়াটিয়া মানুষের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। শহরের বিভিন্ন ভাড়াটিয়া মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী চলছে অঘোষিত লকডাউন। ফলে অধিকাংশ নিম্ন,মধ্যবিত্ত সহ অনেকের ঘরের খাবার শেষ হয়ে গেছে। ত্রাণের আশায় ঘরের দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকেন কেউ কেউ। কে কখন ত্রাণ নিয়ে আসেন সেই প্রতীক্ষায়। রয়েছেন চরম বিপাকে। আবার কেউবা লোক লজ্জায় না খেয়েই দিন পার করেন। আবার এই মুহূর্তে বাড়িওয়ালারা ভাড়ার টাকার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। বরিশাল শহরের ব্রাউন কম্পাউন আবাসিক এলাকার কয়েক জন ভাড়াটিয়ারা প্রতিবেদকে জানান, একটি ছোট চাকরী নিয়ে গ্রাম থেকে বরিশাল শহরে এসে ভাড়াবাসায় উঠেছেন। তিনি আরো বলেন আমার মত কেউ টিউশনি করে, কেউ ক্ষুদ্র চাকরিজীবী। কিন্তু করোনার কারণে চলতি মাসের মাঝখান থেকে তাদের টিউশনি বন্ধ, অন্যজনের চাকরি বর্তমানে বন্ধ। মাস শেষ বেতন পাওয়া অনিশ্চিত। কিন্তু মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। পলাশপুর বস্তি এলাকায় ভাড়া থাকেন শহরের অনেক জন খাবার হোটেলের কর্মচারীরা । কাজ করতেন রেস্টেুডেন্ট ও হোটেলে। করোনার কারণে বরিশালের সব খাবার হোটেল বন্ধ। তাই তাদের কাজও বন্ধ,সাথে বেতন ও বন্ধ। আক্ষেপ করে বলেন, আমার পরিবারে একমাত্র ভরসা আমি। কোন জায়গায় কাজ করতে পারি না। কোন মতে খেয়ে না খেয়ে পরিবার নিয়ে চলছি। প্রতি মাসেই বাসা বাড়া দিতে ঝামেলা হয়। সময়মত দিতে পারি না। এবার তো দিতেই পারবো না। বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেছে। আর যদি এই বাসায় থাকি তাহলে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিতে হবে। সব মিলে মানুষিক চাপের মহাসাগরে আছি, এর থেকে করোনায় মৃত্যু ভাল। করোনায় নয় মনে হয় মানুষিক চাপেই মরে যাবো এবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জর্ডন রোর্ড এলাকার এক বাড়িওয়ালা বলেন, আমরা ঋণ করে বাড়ি করেছি। আজ পর্যন্ত সব টাকা কিস্তি দিতেই যাচ্ছে। একটি টাকা দিয়েও বাজার করে খেতে পারি নাই। আর ব্যাংক তো আমাদের ছাড় দেবে না, এ টাকা তারা নেবেই। সুতরাং বাড়ি ভাড়া ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। আর ভাড়াটিয়ারা কোথায় টাকা পাবে এটা চিন্তা করে লাভ নেই। তারা এতদিন চাকরি করে কি করেছে, কোন টাকা জমায়নি কেন। বিপদের জন্য মানুষ ঠিকই টাকা জমায়। এখন সবার বিপদের সময় টাকা তো দিতেই হবে তাই না। বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, যারা বাড়ি ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন আমি তাদের উদ্দেশ্য বলবো, আপনারা মানবিক হোন। এই দুর্যোগে আপনারাও যোদ্ধা হিসেবে যোগদান করেন। সবকিছু সরকারের আশায় থাকলে হবে না। নিজেদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা ১ মাসের বাড়ি ভাড়া ছেড়ে দিতে পারেন না। তাই আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ ভাড়াটিয়াদের প্রতি একটু মানবিক হোন। তাদের পাশে দাঁড়ান। আপনারাও করোনা যুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে যোগ দেন। তাহলেই হয়তো আমরা এবারের মত জয়ী হতে পারবো। বরিশাল নগরীর বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের সবারই কর্মস্থল বন্ধ। নিজেরা হয়ে আছেন ঘরবন্দি। তাই আয়-রোজগারও নেই। খাবারের ব্যবস্থা করতেই তাদের হিমশিম অবস্থা। তাই মানবিক বিবেচনায় তারা বাড়ির মালিকদের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন, অন্তত এপ্রিল মাসের ভাড়া যেন মওকুফ করা হয়। এব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর থাবায় পুরো বিশ্ব যেখানে থমকে আছে। সেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পাড়ছেনা, যেতে পারছেনা তার কর্মস্থলে। তাই বরিশাল ভবন মালিকদের কাছে অনুরোধ কোন ভাড়াটিয়াকে ভাড়ার জন্য চাপ দিবেনা। তারপও যদি কোন বাড়ির মালিক ভাড়ার জন্য চাপাপাপি করে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here