মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে চেঁচামেচি করে কাঁদলে যে শাস্তি হবে…

ধর্ম ডেস্ক:আমরা কেউ সহজে আপনজনের মৃত্যু মেনে নিতে পারি না। আর জম্মালে একদিন মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এটি চিরন্তন সত্য কথা।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘কুল্লু নাফসিন যা-ইকাতুল মাওত’ অর্থাৎ : ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হবে।’

তবে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় আমাদের সমাজে বিশেষ করে, আমাদের সংস্কৃতিতে যখন আপনজনদের মৃত্যু হয়, তখন আমরা শোকাহত হয়ে কান্নাকাটি করি। আমরা জানি না যে, উচ্চস্বরে চেঁচামেচি করে মৃত্যুর শোক প্রকাশ করা কত জঘন্য মাত্রার একটি গুনাহের কাজ। যদি মৃত ব্যক্তির জন্য আপনি হাউমাউ করে কান্নাকাটি করেন তাহলে আপনার কঠিন শাস্তি হবে। যা বিভিন্ন হাদিসে উঠে এসেছে।

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে চেঁচামেচি করে কাঁদলে কি ধরণের শাস্তি হতে পারে সে সম্পর্কে-

আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে তখন মৃত ব্যক্তির পরিবার যদি তার জন্য কান্নাকাটি না করে তখন পাড়ার লোকজন বলে, মৃত ব্যক্তির জন্য কারো টান নেই। আহারে লোকটা সারা জীবন সবার জন্য কত কিছু করলো কিন্তু তার জন্য কেউ একটুও কান্না করে না, কারো ভালোবাসা নেই। পরিবারের লোকেরা সব আজরাইলের মতো। কারো মনে দয়া মায়া নেই, এ ধরনের কথা বলে।

অথচ মৃত ব্যক্তির জন্য কান্না করলে যে, মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হবে, সেদিকে কারো খেয়াল নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের অধিক মাত্রায় কান্নাকাটির জন্য শাস্তি দেয়া হবে।(বুখারী-১২২৬ নম্বর হাদিস)।

এই হাদিস দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায় মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে মৃত ব্যক্তিকেই শাস্তি দেয়া হবে। যখন কোনো জীবিত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে কান্না করে, তখন এই জীবিত মানুষদের কি শাস্তি দেয়া হবে, এ ব্যাপারে হাদিসে স্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হজরতে আবু মালিক আশইয়ারী (রা.) নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে চারটি জাহিলিয়াতের অভ্যাস রয়েছে, যা তারা ত্যাগ করবে না। আর তা হচ্ছে, স্বীয় বংশের গৌরব করা, অন্যের বংশকে দোষারোপ করা, তারকার মাধ্যমে বৃষ্টি কামনা করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে চেঁচামেচি করে কান্নাকাটি করা। এই হাদিসের শেষ অংশে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে ক্রন্দনকারী ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করলে কিয়ামতের দিন তাকে দুর্গন্ধযুক্ত পায়জামা এবং শরীরের পচন সৃষ্টিকারী পোশাক পরানো হবে। (মুসলিম: কিতাবুল জানায়েজ)।

এছাড়া নবী করিম (সা.) আরো বলেছেন, ‘যারা মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশ করতে গিয়ে গাল চাপড়ায়, জামার বোতাম ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলিয়াতের যুগের মতো চিৎকার করে কান্না করে। তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (বুখারি- ১২২০)।

এই হাদিস দু’টি থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, যারা আহাজারি করে মৃত ব্যক্তির জন্য কান্না করবে তারা নবী করিম (সা.) এর দলভুক্ত না। মৃত্যুর ওপর বিলাপকারিণী যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে, তাহলে তাকে কিয়ামত দিবসে এমন অবস্থায় উত্থান করা হবে যে, তার ওপর আলকাতরাযুক্ত ও মরিচাযুক্ত পোশাক থাকবে। (মুসলিম- ৯৩৪)।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর অনুসরণ ও অনুকরণের মধ্যে রয়েছে মানুষের জন্য চির সফলতা। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আমার আপনজনকে আমি হারিয়েছি। আমার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়লে এ অশ্রু আমি কীভাবে থামাবো? পৃথিবী থেকে আপনজনের বিদায় কতটা ব্যথার আমরা সবাই বুঝি। রাসূল (সা.) অশ্রু গড়িয়ে পড়া নিয়ে কখনোই বাঁধা দেননি এবং এর ফলে আপনার কিঞ্চিত পরিমানও গুনাহ হবে না। কারণ অশ্রু থামানোর ক্ষমতা সব মানুষের নেই। অশ্রু তো ঝরে পড়বেই। এই হাদিস দ্বারা সেই ব্যক্তিদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যাদের চোখে অশ্রু থাকুক বা না থাকুক চিৎকার-চেঁচামেচি করে, চারপাশের পরিবেশ অশান্ত করে ফেলেন অথবা হামাগুড়ি দিয়ে নিজের শরীর চাপড়াতে থাকে। সেই সব ব্যক্তিদের প্রতি অভিশাপ দেয়া হয়েছে।

যারা নীরবে-নিভৃতে মৃত ব্যক্তির জন্য চোখের অশ্রু ঝরায়। তাদের ব্যাপারে কোরআন এবং সুন্নায় কোনো গুনাহের কথা বলা নেই। তবে চেষ্টা করতে হবে ধৈর্য ধারণ করার জন্য। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বোঝার তাফিক দান করুক। কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা এবং জীবনঘনিষ্ঠ ভুল ভ্রান্তিগুলো থেকে সরে আসার তাফিক দান করুক। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here