সন্ধ্যায় বন্ধের আওতামুক্ত সংবাদপত্র

নিজস্ব প্রতিনিধিঃবিশ্ব সংকটের কালে সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর তাইতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সব প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয় দ্রুত। দেশে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের পরেও এর কোনো হেরফের হয়নি। আজ সন্ধ্যা সাতটা থেকে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হলেও সংবাদপত্র আওতামুক্ত থাকছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশের সব কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, ছুটি বা বন্ধ সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের জন্য প্রযোজ্য হবে। স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদপত্রসহ অন্যান্য জরুরি প্রতিষ্ঠান চলবে।

৫ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত যে ছুটি দেয়া হয়েছে তাতে জরুরি সেবাসহ সংবাদপত্র এর আওতামুক্ত থাকবে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তারা নগরের দামপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ওই বাড়ি এবং প্রতিবেশী আরও পাঁচটি ভবন লকডাউন করে দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগীর সংস্পর্শে আসায় তিনজন চিকিৎসকসহ ১৮ জনকে আগেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৫ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন ও নারী ৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন প্রেসব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

ফ্লোরা বলেন, ‘নতুন করে দেশে ৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন মারা গেছেন। দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন।’

তিনি আরো বলেন, ‘নুতন শনাক্তের মধ্যে ৪১-৫০ বছরের কোঠায় ১১ জন এবং ২১-৩০ বছরের কোঠায় আছেন ৬ জন। সারাদেশ শনাক্ত ১২৩ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা শহর ৬৪ জন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২৩ জন এবং এরপরে মাদারীপুরে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ১২ জন শনাক্ত হয়েছে।’

ডা. সেব্রিনা বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেই দুদক পরিচালকের করোনা শনাক্ত করা হয়। এরপর তার সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়। বাকি দু’জন হাসপাতালে আনার পর মারা যান।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here