কঠিন সময় পাড় করছে চা-বিক্রেতারা

ফরমান শেখ, টাঙ্গাইল : প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অসহায়-হতদরিদ্র চা-বিক্রেতারা হতাশায় কঠিন সময় পাড় করছে। ফলে দোকান বন্ধ করে বেকার সময় কাটাচ্ছেন নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলো। জানা গেছে, গেল কয়েক সপ্তাহ আগে উপজেলা প্রশাসন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ও প্রতিরোধে এ উপজেলার বিভিন্ন চায়ের দোকানগুলোতে টিভি চালানো বন্ধসহ ও সবধরণের আড্ডা বন্ধের নির্দেশ দেয়। নির্দেশ না মানলে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধানও জারি করেন। তারপর থেকেই দোকানগুলোতে কমতে থাকে জনসমাগম। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হলে চা-দোকানগুলো একেবারেই বন্ধ করে দেয় প্রশাসান। এদিকে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে গ্রাম-অঞ্চলের চা-বিক্রেতারা অনেকেই পেটের দায়ে চুপি চুপি চা-বিক্রি করে আসছেন।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) ভূঞাপুর বাস স্ট্যান্ড, গোবিন্দাসী বাজার, নিকরাইল বাজার, মাটিকাটা মোড়, সিরাজকান্দী বাজার, পাথাইকান্দী (যমুনা সেতু) বাজারসহ এ উপজেলার বিভিন্ন জনগুরুপূর্ণ এলাকাগুলোতে রয়েছে নিরবতা ও থমথমে পরিবেশ দেখা গেছে।

পৌর শহরের ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সামনে চা-বিক্রেতা মো. আব্দুল খালেক  বলেন- করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ১ মাস ধরে দোকান বন্ধ করে বসে আছি। এতে করে আয়-রোজগারের মাধ্যম বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থাতে ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছি।

পাথাইকান্দী (যমুনা সেতু) বাজারের চা বিক্রেতা মো. আব্দুল মান্নান মিয়া  কে বলেন- সরকারের নির্দেশ মতে আমার চায়ের দোকান বন্ধ করে রেখেছি। কিন্তু আর কতদিন এভাবে বন্ধ করে রাখতে হবে কে জানে। এদিকে, চা বিক্রি করেই চালতো সংসার। দোকান বন্ধ রাখার ফলে অনেক সময় অনাহারেও থাকতে হয়। শুধু খালেক ও মান্নান নয়। তাদের মতো উপজেলার শত শত চা বিক্রেতারাও খেয়ে না খেয়ে কষ্টে দোকান বন্ধ করে বসে থাকেন দোকানে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় চা দোকানগুলো বন্ধের বিষয়ে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবেরর সভাপতি শাহ্আলম প্রামানিক  কে বলেন- করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা সকলের মেনে চলা উচিত। অন্যদিকে, অসহায়-হতদরিদ্র চা-বিক্রেতাদের সহযোগিতায় এই সময়ে সরকারের পাশাপাশি এলাকার বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন  বলেন, করোনা ভাইরারের কারণে ও মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশ মতে এ উপজেলার বিভিন্ন চা-দোকানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে হতদরিদ্র চা-বিক্রেতার মাঝে সরকারি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here