বরিশালে ঝুঁকিতে ১৪০০ কারাবন্দী

শামীম আহমেদ,বরিশাল:বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে করোনাভাইরাস শনাক্তের কোনো মেশিন না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বন্দী হাজতি ও সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিসহ কারা সদস্যরা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৩ শত ৯৭ জন কারাবন্দী রয়েছে। এসব কারাবন্দীদের জন্য বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ডিপ্লোমা নার্স, ফার্মাসিস্ট দিয়ে দেখভাল করছেন, এতে কোনো কারাবন্দীর শরীরে এখন পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ বা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।

কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাইরে থেকে নতুন কোনো কারাবন্দী ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে পরীক্ষা করা এবং ভেতরের কারাবন্দীদের পরীক্ষা করার কোনো মেশিন না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে কারাগের বন্দী ও কারা সদস্যরা।

স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজ বলছেন, করোনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো লোক সমাগম স্থল এড়িয়ে চলা। সাধারণ কারাগারে একই জায়গায় অনেক বন্দী থাকেন। দেশে প্রায় সব কারাগারেই ধারণক্ষমতার বেশি বন্দী রয়েছে। তাই বন্দীদের মাধ্যমে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নূর মোহাম্মাদ মৃধা বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এরইমধ্যে আমরা নানাভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। কারা অভ্যন্তরে একটি ভবনের দুটি ফ্লোর রেডি রাখা হয়েছে, প্রয়োজন হলে আসামিদের সরিয়ে পুরো একটি ভবন রেডি করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।

এছাড়া আমাদের কারাগার সদস্যদের জন্যও দুটি ভবন প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেখানে ৬০ থেকে ৭০ জনকে আইসোলেশন দেয়া যাবে।

তিনি আরো জানান, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্ক্যানার মেশিনটি চেয়েছি আশা করছি দ্রুত আমরা এটি পেয়ে যাবো।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের ৬৮টি কারাগার ঘিরে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার কারাবন্দী কারো শরীরে করোনার কোনো বাহ্যিক লক্ষণ রয়েছে কিনা তা সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে কারা চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। নতুন সব কারাবন্দীকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ ও ১৪ দিন পর্যবেক্ষণের পর তাদের অন্য বন্দীদের সঙ্গে রাখারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া অপরদিকে গত দুইদিন ধরে বরিশাল জেলা ও মেট্রো আদালতে কারাগার থেকে কোনো মামলার আসামিকে আদালতের হাজত খানায় আনা হচ্ছে না বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রো আদালতের হাজতখানার গারদ খানার ইনচার্জ এসআই মো. লোকমান ও বরিশাল সদর কোর্ট ইনচার্জ এটি এসআই মো. আমির হোসেন।

তারা জানান, এখন শুধু প্রতিদিন থানা পুলিশের আটক পাঠানো আসামি ছাড়া আদালতের গারদে কারাগারের আসামি নেই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here