১৯ থেকে ৪৪ বছর বয়সীরাও করোনায় আক্রান্ত হতে পারে বলছে গবেষণা

নিউজ ডেস্ক :করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বয়স্করা, এ ধারণাটি কিন্তু আদৌ সঠিক নয়। তরুণরাও এ ঝুঁকির বাইরে নেই। মরণব্যাধি এই ভাইরাসের কবলে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছে, তরুণরাও করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। সামাজিক মেলামেশা বা যোগাযোগের মাধ্যমে এই ভাইরাস বয়স্কদের মধ্যে ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত তাদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, এই সঙ্কটপূর্ণ সময় বিশ্বের তরুণাই পারে তাদের পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে।

করোনায় বয়স্করা বেশি মারা যাওয়ার ফলে তরুণদের মধ্যে এই ধারণা জন্ম নিয়েছে যে তাদের বোধ হয় করোনা সংক্রমণ ঘটবে না। আর ঘটলেও মৃত্যু হবে না! এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।  আর এ কারণে তরুণরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক না থেকে হেলাফেলার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। যা তাদের জীবনকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৮৮ জনেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মারা গেছে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের মধ্যে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রথমত ধারণা করা হয়েছিল, করোনাভাইরাসের কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, নতুন কয়েকটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পর সেই ধারণা পাল্টানোর সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, করোনায় তরুণদের মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ধারণার চেয়েও অনেক। যুক্তরাষ্ট্রে যেসব মার্কিনরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তাদের প্রাথমিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে হয়েছে গবেষণা।

আর সেই পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে শুধু বয়স্করা নয় বরং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে অনেক তরুণরাও। তবে গবেষকরা চাইলেও এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা নীরিক্ষা চালাতে পারেননি। পূর্বের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে আসে শুধু বয়স্করাই এই ভাইরাস সংক্রমণে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে এবার সে ধারণা পাল্টে দিল নতুন এই গবেষণা।

এ গবেষণা কাজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আড়াই হাজার করোনাভাইরাস আক্রান্তের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে তাদের ২০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪৪ এর মধ্যে এবং ৩৮ থেকে এর বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে।

তবে এটাও সত্য, করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়স্করা। আর তাদের অনেকেরই বয়স ৮৫ বছরের চেয়ে বেশি। অন্তত ১৫ শতাংশ এমন বয়স্ক ব্যক্তিরা মরণ এই ব্যাধিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ৪০ বছরের কম বয়সী আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক দুই শতাংশ।

এদিকে, গত সপ্তাহে ইতালির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইসিইউ’তে ভর্তি হওয়া ১২ শতাংশ রোগীর বয়স ১৯ থেকে ৫০ এর মধ্যে। ফ্রান্সের পরিসংখ্যানেও তরুণদের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়ানোর হার বেশি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

হার্ভার্ডের টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক মার্ক লিপসিচ বলেছেন, করোনা যদিও এখন পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে কম ছড়িয়েছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্থ করেছে তবুও সামান্য অসতর্কতায় এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here