কুড়িগ্রামের ডিসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ‘সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নেয়া এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার তদন্ত রিপোর্টের ড্রাফট আমরা পেয়েছি। তদন্তের মধ্যে আমরা অনিয়ম দেখেছি। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার। সেটি প্রক্রিয়াধীন। পুরোপুরি রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।

গত শুক্রবার মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার সদস্যদের একটি টিম কুড়িগ্রাম শহরের চড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের বাড়িতে হানা দেয়। এরপর মারধর করতে করতে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে তার পোশাক খুলে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনার নেতৃত্ব দেন ডিসি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন। এরপর মাদকবিরোধী অভিযানে আটক এবং পরে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে আরিফুলকে কারাগারে পাঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে শনিবার রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানাকে দিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তাৎক্ষণিক সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে শনিবারই বিভাগীয় কমিশনাররের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর রোববার ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here