শ্যামনগর থানার উপ পরিদর্শক লিটন প্রত্যাহার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : শ্যামনগর থানার উপ পরিদর্শক লিটন মিয়াকে খুলনা ডিআইজি অফিসে প্রতাহার করা হয়েছে। রবিবার সুন্দরববনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মেঘনা নদীর চর এলাকা হরিণ শিকারের ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের দাবি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের শুকদী -গুবদী এলাকা থেকে তিনটি জবাই করা হরিণ, তিনটি একনালা বন্দুক ও একটি নৌকাসহ দুই চোরাশিকারীকে গ্রেপ্তার করে ওই দিন।

উপ পরিদর্শক লিটন মিয়া তাকে কি কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে তা তিনি জানেন না উল্লেখ করে বলেন, তবে শ্যামনগরে একটি সরকার দলীয় পক্ষ কিছুদিন ধরে তার বিপক্ষে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছিল। তিনি আরও জানান,সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের গহীনে বনদস্যু জাকির বাহিনীর সদস্যরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনকুড়ি নদী সংলগ্ন দোবেকী নামকস্থান পুলিশের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়।

এ সময় সেখান থেকে তিনটি জবাই করা হরিণ, তিনটি একনালা বন্দুক ও একটি নৌকাসহ দুই চোরাশিকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, এ সময় শিকারি দলের কয়েক সদস্য সুন্দরবনের সুন্দরবনের মধ্যে পালিয়ে যায়।

সন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক জি,এম রফিকুল আহমেদ জানান, তারা গোপন সংবাদ পায় একটি সংঘবদ্ধ দল সুন্দরবনে হরিণ শিকারে নেমেছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে বোরবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযানে নামে সুন্দরবনে। রাত দুটোর দিকে সুন্দরবনের শুকদী -গুবদী খালের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দুইটি নৌকা আটক করে। এর মধ্যে একটি নৌকায় উপ পরিদর্শক লিটন মিয়া ও হাবিবুর রহমানসহ সাতজনজন পুলিশ সদস্য ছিল। অন্য নৌকায় জাতীয় পাটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার মোড়লসহ কয়েকজন ছিল। পুলিশ পরিচয় পেয়ে তারা নৌকা দুইটি ছেড়ে দেয়।

অভিযোগ, আব্দুস ছাত্তার মোড়ল দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার করে আসছে। তার হরিণ শিকারে পুলিশ সহযোগিতা দিয়ে থাকে। রোববারও আব্দুস ছাত্তার মোড়ল হরিণ শিকারে পরিদর্শক লিটন মিয়া নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল সহযোগিতায় যায়। এ কারণে তাকে খুলনা ডিআইজি অফিসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মান্নান আলী জানান, এ ঘটনায় উপ পরিদর্শ লিটন মিয়া বাদি হয়ে গ্রেপ্তারকৃত শ্যামনগর উপজেলার কদমতলা গ্রামের মঞ্জুরুল গাজী (৩৯) ও পাতাখালি গ্রামের মহিবুল্লাহ গাজীসহ (৫০)জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার মোড়ল (৫৮), বন্দুকের মালিক তার ভাইপো কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের হাফিজুর রহমান (৫২),শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি গ্রামের এবিএম আব্দুল আজিজ ও হরিনগর গ্রামের মো: সালাউদ্দিনের (৫৪) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ঘটনায় উপ পরিদর্শক লিটন মিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সম্ভবত এ জন্য উদ্ধর্তন মহল নির্দেশ তাকে শুক্রবার বিকেলে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিস্তারিত এখনই বলা সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here