ইতিহাসের এই দিনে

আজ (বুধবার) ১১ জুলাই’২০১৮

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সুপারিশক্রমে ১৯৮৯ সালে প্রতি বছর জুলাই মাসের ১১ তারিখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৯০ সাল থেকে টহরঃবফ ঘধঃরড়হং ঋঁহফ ভড়ৎ ঢ়ড়ঢ়ঁষধঃরড়হ অপঃরারঃবং (টঘঋচঅ) এর নির্দেশনায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের আহবানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় করা হচ্ছে দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবছর এ দিবসটির বিভিন্ন মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক করা হয়।

উল্লেখ্য, জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে মূলত বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে এ দিবসটি নিয়মিতভাবে পালিত হচ্ছে ১৯৯৫ সাল থেকে । জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই বেশি। ১৯৬০ সালে বিশ্ব জনসংখ্যার ৭০% ছিলো উন্নয়নশীল দেশে। এ হার বেড়ে এখন ৮০% এর উপরে চলে গেছে। অপরপক্ষে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ১৫% ঘটে উন্নয়নশীল দেশে। আজ বিশ্বের জনসংখ্যা ৬০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২১ কোটিতে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ এ সমস্যাকে চিহ্নিত করে এবং সমস্যা উত্তরণে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করে । আজ মাঠ পর্যায় পর্যন্ত গড়ে উঠেছে বিস্তৃত সেবা প্রদান অবকাঠামো ও বিপুল সংখ্যক মাঠ কর্মী। মাঠ কর্মীরা সক্ষম দম্পতিদের ঘরে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিচ্ছে। অর্জিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি । পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৭০ দশকে ৮% থেকে ৫১% এ উন্নীত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০০৫ সাল নাগাদ দেশে সার্বজনীন দু-সন্তানের পরিবার গড়ে তোলা বা এন আর আর-১ অর্জন । এ লক্ষ্য অর্জন করতে ৭০% সক্ষম দম্পতিকে পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় নেয়া আবশ্যক । জনসংখ্যা বৃদ্ধি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যা হলেও এর প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী। তাই বিশ্বের উন্নত ও স্বল্পোন্নত সকল দেশ, বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে ভূমিকা পালন করেছে। কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন। দেশে দেশে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। তৎপর রয়েছে ১৯৬৯ সালে গঠিত জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (টঘঊচঅ)।

১৯২১ সালের এ দিনে মঙ্গোলিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে। মঙ্গোলিয়ার ইতিহাস অত্যন্ত পুরনো। বিশ্ব ইতিহাসে কূখ্যাত দূর্র্ধ্বষ দিগি¦জয়ী মোঙ্গল সমরনায়ক চেঙ্গিস খান এই মঙ্গোলিয়া থেকেই দেশজয় অভিযান শুরু করেছিলেন এবং তার সা¤্রাজ্য পূর্ব ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর মোঙ্গল সা¤্রাজ্য বিভক্ত হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তা অভ্যন্তরীণ মোঙ্গলিয়া ও বিদেশী বা বর্হিমঙ্গোলিয়া নামে দুটি অংশে বিভক্ত হয়। অভ্যন্তরীণ মোঙ্গলিয়া চীনের দখলে থাকে এবং বিদেশী বা বর্হিমঙ্গোলিয়া সপ্তদশ শতকের শেষের দিক পর্যন্ত চীনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯১১ সালে চীনে মাঞ্চুকো সরকারের পতন ঘটলে বর্হিমঙ্গোলিয়া এই সুযোগে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর কিছুকাল পর চীন ও রাশিয়া একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বর্হিমঙ্গোলিয়াকে সমর্থন ও সহায়তা দিতে থাকে। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হলে চীন বর্হিমঙ্গোলিয়াকে পুরোপুরি চীনের অংশে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন চীনের এ তৎপরতায় বাধা দেয়। ফলে মঙ্গোলিয়া ১৯২১ সালে আবারও স্বাধীনতা ফিরে পায়। ১৯২৪ সোভিয়েত ইউনিয়নের উস্কানীতে মঙ্গোলিয়ায় রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশটি সোভিয়েত স্টাইলের সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। অবশ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর মঙ্গোলিয়া গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। মঙ্গোলিয়ার আয়তন ১৫ লক্ষ ৬৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং রাশিয়া ও চীন এই দেশটির দুই বৃহৎ প্রতিবেশী।

১৯৯৫ সালের এ দিনে ৮ হাজারেরও বেশী বসনীয় মুসলমান সেব্রেনিৎসা শহরে সার্ব চরমপন্থীদের হাতে নিহত হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এটাই ইউরোপে গণহত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সেব্রেনিৎসা শহরকে সংরক্ষিত বা নিরাপদ অঞ্চল বলে ঘোষণা করা সত্ত্বেও সেব্রেনিৎসা শহরে মোতায়েন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের চোখের সামনেই বেলগ্রেড সরকারের মদদপুষ্ট আধাসামরিক সার্বরা শহরটি দখল করে। এ অবস্থায় সার্বদের নৃশংস আচরণ সম্পর্কে সচেতন মুসলমানরা শহরটি থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে বর্বর সার্বরা সমস্ত মুসলমান যুবক ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নির্মমভাবে হত্যা করে। সার্বরা কেবল মুসলিম নারী ও শিশুদেরকে শহরটি ত্যাগের অনুমতি দেয়। এ গণহত্যার সময় সেখানে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ডাচ সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। মানবাধিকারের দরদী হবার দাবীদার ইউরোপের সরকারগুলো এ মানবীয় বিপর্যয়ের ব্যাপারে কোনো উচ্চ-বাচ্য করেনি। বসনিয়ার যুদ্ধের পর তিনটি তদন্ত কমিটি সেব্রেনিৎসা শহরে মুসলমানদের ওপর গণহত্যার জন্য জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় জোটের অবহেলা বা উদাসীনতাকে দায়ী করে। আজও এ গণহত্যার মূল হোতা ও সহযোগী ব্যক্তিদের বিচার করা হয় নি বা সাজা দেয়া হয় নি।

এবারে এ দিনে সংঘটিত আরো কয়েকটি স্মরণীয় ঘটনা তুলে ধরছি।

১৯৬০ সালের এ দিনে পাশ্চাত্যের বিভেদ ও শাসন করার নীতির ফসল হিসেবে কঙ্গোয় দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৯০ সালের এ দিনে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের খনি আবিস্কৃত হয়।
৩৯৬ বছর আগে এ দিনে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফক্বীহ শেখ আবু জাফর মোঃ বিন হাসান জন্মগ্রহণ করেন। শেখ হোর আমেলী নামে খ্যাত এই আলেম ওয়াসায়েলুশশিয়া, হেদায়াতুল উম্মাহ এবং লেবাননের আলেমদের পরিচিতি সংক্রান্ত বই আহওয়ালে ওলামায়ে জাবাল আমোল নামক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের লেখক।

খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ান নিহতের মধ্য দিয়ে উমাইয়া বংশের খেলাফতের অবসান (৭৫০)
মরক্কোতে ইদ্রিসী রাষ্ট্র গঠিত (৭৮৮)
সতীদাহ প্রথা বিলোপের বিরুদ্ধে সংসদে নাকচ (১৮৩২)
ভারতের গোড়া হিন্দুদের আবেদন ব্রিটিশ
ব্রিটিশ নৌবহর থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় বোমা বর্ষণ শুরু (১৮৮২)
অবিভক্ত ভারতের কলকাতায় প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত (১৮৮৯)
ইসরাইলি সম্প্রদায়ের নেতা তৃতীয় আগা খানের মৃত্যু (১৯৫৭)
জায়ারের কাতাঙ্গা প্রদেশের স্বাধীনতা চেষ্টা (১৯৬০)
মার্কিন মহাকাশযান স্কাইল্যাব ভারত মহাসাগরে ভেঙ্গে যায় (১৯৭৯)
বিশ্বকাপ ফুটবলে পশ্চিম জার্মানিকে পরাজিত করে ইতালির তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নশিপ লাভ (১৯৮২)
জেদায় ফিরতি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৬৬ হাজী নিহত (১৯৯১)
অর্থ আত্মসাত ও মাদক চোরাচালানের অভিযোগে পানামার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ৪০ বছর কারাদ- ১৯৯২)
নাইজেরিয়ায় গ্যাসোলিন পাইপ লাইন বিস্ফোরিত হয়ে ২শ’ নিহত (২০০০)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here