সাতক্ষীরায় স্বামীসহ স্কুল শিক্ষকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ: স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দিতে নির্যাতন ও ধর্ষিতা হতে বাধ্য করার অভিযোগে স্বামীসহ এক স্কুল শিক্ষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামীরা কাঠগড়ায় অনুপস্থিত ছিলেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামের জয় মণ্ডলের ছেলে নিমাই মণ্ডল ও একই গ্রামের অতুল ঘোষের ছেলে কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট স্কুলের শিক্ষক তপন কুমার ঘোষ।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ২০০০ সালে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার উত্তর বেতকাশী গ্রামের এক দিনমজুরের মেয়ের সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামের জয় মণ্ডলের ছেলে নিমাই মণ্ডলের বিয়ে হয়। নিমাই মণ্ডল মাদকাসক্ত ছিল। প্রতিবেশী স্কুল শিক্ষক তপন ঘোষের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে শুকর পালনের পাশাপাশি মাদক সেবন করার সুবিধার্থে সে তার স্ত্রীকে ওই শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো। শিক্ষক তপন ঘোষও ওই গৃহবধুকে কু’প্রস্তাব দিতো। ২০০৫ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি এক রাতে ১০টার দিকে স্বামী নিমাই স্ত্রীকে তপনের শয্যাসঙ্গিনী হতে বলে । রাজী না হওয়ায় তাকে মারপিট করা হয়।

একপর্যায়ে ওই বছরের পহেলা আগষ্ট তপন তাকে ধর্ষণ করে। স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচানোর কথ বলে তপন ওই গৃহবধুকে প্রায়ই ধর্ষণ করতো। ২০০৬ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি রাত ৮টার দিকে তপন ঘোষ একাকি নিমাই মণ্ডলের বাড়িতে আসে। তপনের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় রাত ১২টার দিকে স্ত্রীকে তার স্বামী কাপড় ছিঁড়ে হাত ও মুখ বেঁধে মারপিট করে। পরে তপন তার যৌনাঙ্গে বাঁশের লাঠি ঢুকিয়ে দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে। ওই গৃহবধুকে পরদিন একটি ঘরের মধ্যে আটক থাকা অবস্থায় চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

১৩ ফেব্রুয়ারি নির্যাতিতা নারীর বাবা বাদি হয়ে জামাতা নিমাই মণ্ডল ও তপন ঘোষের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক জসিমউদ্দিন ২০০৬ সালের ২১ মার্চ এজাহারভুক্ত আসামীদের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আট জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আসামী তপন ঘোষ ও নিমাই মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দোহতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(৪)(ক)/৩০ ধারায় উপরোক্ত রায় ঘোষনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. এসএম জহুরুল হায়দার বাবু ও সহকারি পিপি অ্যাড. নাদিরা পারভিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here