জামিনে থাকা সাংবাদিক বাচ্চুকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ, চার ঘন্টা পর মুক্তি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃজেলার উজিরপুর উপজেলার সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চকে কোন ওয়ারেন্ট ছাড়াই উজিরপুর থানা পুলিশ ও দুদক রবিবার দুপুরে শিকারপুর বন্দরে প্রশান্ত শীলের সেলুন থেকে গ্রেফতার করে প্রকাশ্যে হাতকড়া লাগিয়ে এএসআই জাহাঙ্গীর হোসেন ও আল আমিন শিকারপুর বাজার ঘুরিয়ে শিকারপুর পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে রাখে।

পরে ব্যবসায়ী সহ শতশত মানুষ তার আটকের কারণ জানতে চাওয়ায় তড়িঘরি করে উজিরপুর থানায় নিয়ে ওসি শিশির কুমার পাল শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট না থাকায় তাকে মুক্তি দানের আদেশ দেন। তাকে গ্রেফতার করা দুদকের কর্মকর্তাদের আদালতে তলব করে ব্যাখ্যা চান।

এদিকে সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চু কে পুলিশ ও দুদক গ্রেফতার করায় বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

জানা গেছে, শিকারপুর রূপালী ব্যাংকে একটি একাউন্টের পরিচিতি হিসাবে শাকিল মাহমুদ বাচ্চু স্বাক্ষর করলে ওই একাউন্টধারী ব্যাংকের টাকা জালিয়াতি করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় শাকিল মাহমুদ বাচ্চুকে আসামী না করা হলেও পুলিশ চার্জশীটে তাকে আসামী করে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। মামলা নং- জিআর ৭৫/০৪। সেই থেকে শাকিল মাহমুদ বাচ্চু ওই মামলায় জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছেন নিয়মিতভাবে। জামিনে থাকা সেই মামলায় আটক দেখিয়ে পুলিশ ও দুদক তাকে গ্রেফতার করে দু-হাতে হ্যান্ডকাফ ও কোমড়ে দড়ি বেঁধে আদালতে সোপর্দ করে।

এ সংবাদ বরিশালে মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে আদালত পাড়ায় ভিড় জমায় মিডিয়া কর্মী ও শিকারপুর এলাকার ব্যবসায়ী কমিটির নের্তৃবৃন্দ সহ সুধীজনরা। বিকালে শাকিল মাহমুদ বাচ্চু বরিশাল আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি লাভ করলে তাকে ফুল দিয়ে বরন করে নেন সাংবাদিক ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশা শ্রেনীর মানুষ।

শাকিল মাহমুদ বাচ্চু জানিয়েছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে উজিরপুর থানা পুলিশ ও দুদকের কর্মকর্তারা তাকে আটক করে নানভাবে নির্যাতন ও মানহানী করার আপচেষ্টা চালায়।

বাচ্চু আরও অভিযোগ করেন, ওসি শিশির কুমার পাল’র বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি নিজে থানায় তাকে নানাভাবে নির্যাতন ও গালিগালাজ করেন। এমনকি যে, পুলিশ পিকআপে তাকে আদালতে পাঠান হয় সেই পিকআপে দু হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে কোমড়ে রশি বেঁধে বসে থাকা পুলিশের পায়ের কাছে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here