আমতলীতে বাস টার্মিনাল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে যাত্রী সাধারন

dav

জাকির হোসেন, আমতলী : সড়ক পথে কলাপাড়া, তালতলী, বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলার ‘প্রবেশ দ্বার’ হিসেবে খ্যাত আমতলী উপজেলায় দীর্ঘ দিনেও কেন্দ্রীয় কোন বাস টার্মিনাল না থাকায় চরম ভোগান্তি পেহাচ্ছে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। সড়ক মহাসড়কে যত্রতত্র বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন দাড় করিয়ে রাখায় যাত্রী-সাধারণের দুর্ভোগের শেষ নেই। ফলে আমতলীতে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল স্থাপন এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিনত হয়েছে।
বরিশাল-পটুয়াখালী-আমতলী-কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কটি আমতলী পৌর শহরের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে। শহরটি এই অহঞ্চলের মহাসড়কের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত। পটুয়াখালী, কলাপাড়া, কৃয়াকাটা, বরিশাল, তালতলী ও বরগুনা জেলার কয়েকটি সড়ক মহাসড়কের বাস ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন এই শহরের উপর দিয়ে চলাচল করে। কলাপাড়ায় পায়ড়া বন্ধর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তালতলীতে জাহাজ নির্মান ও জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের মালামাল পরিবহনের জন্য আমতলীর মহাসড়কটি ব্যবহার করা হয়। ফলে আমতলী উপজেলা এই অঞ্চলের প্রবেশ দ্বার হিসেবে খ্যাত। আমতলী পৌরসভা মহাসড়কের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত হলেও অধ্যবদি পর্যন্ত আমতলী পৌরশহরের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোন বাস টার্মিনাল স্থাপন করা হয়নি। বাস টার্মিনাল না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী সাধারনকে রাস্তায় দারিয়ে বাসে উঠতে হয় এবং নামতে হয়।
১৯৮২ সালে আমতলী থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। উপজেলায় উন্নীত হওয়ার পর ৮৪-৮৫ সালের দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী, আমতলী -কলাপাড়া-কুয়াকাটা, আমতলী -তালতলী ও আমতলী-রগুনার সাথে সড়ক পথ চালু হয়। সড়ক পথ চালু হওয়ার পর এই সড়ক পথে আমতলী হয়ে প্রতিদিন ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, সাতক্ষিরা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশ বাসে লক্ষাধিক যাত্রী চলাচল করে। এই চলাচলের মুল কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে আমতলী সড়ক। আমতলী চৌরাস্তা হয়ে এই অঞ্চলের বাসে যাত্রীদের চলাচলের এক মাত্র পথ। ফলে প্রতিদিন শত শত বাস আমতলী এসে যাত্রা বিরতি করে। বাসগুলো তখন একেস্কুল মোর, বটতলা, চৌরাস্তা ও হাসপাতাল এলাকায় সড়কের উপর দার করিয়ে যাত্রী ওঠা নামা করান। এতে দেখা দেয় সড়কে মারাত্মক যানযট। এভাবে প্রতিদিন এই সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা যানযটে আটকা পরে থাকতে হয় যাত্রীদেরকে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। এছাড়া রোদে শুকিয়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে বাসের জন্য সড়কের উপর দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। বাসস্টান্ড না থাকায় অপেক্ষমান এবং দুর পাল্লার বাসে চলাচল কারী নারী পুরুষদের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয় রাস্তার পাশে কিংবা কোন দেকানের পিছনে। এতে তারা অনেক সময় বিব্রত বোধ করেন। বিষেশ করে নারী যাত্রীরা পরে মারাত্মক অসুবিধায়। নিরুপায় হয়ে তারা সড়কের পাশে অবস্থিত বাসা বাড়িতে গিয়ে লজ্জা সরম ফেলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেন।
প্রতি নিয়ত এই সড়কে চলাচল কারী যাত্রী শহীদুল ইসলাম জানান, ‘বাসে ওঠার জন্য প্রতিনিয়ত সড়কের পাশে দাড়িয়ে থাকতে হয়। কোথাও একটু বসার জায়গা নেই। বৃষ্টির সময় ভিজতে হয় এবং রোদের সময় শুকাতে হয়। এভাবে চলছি ৫টি বছর ধরে’।
আরেক নারী যাত্রী সামসুন নাহার জানান, ‘কি কমু ভাই লজ্জা শরমের কথা। পায়খানা প্রসাবের কোন জায়গা নাই। নিরুপায় অইয়া পাশে এক বাড়িতে যাইয়া কাজ সারলাম।’
পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুল খালেক জানান, ‘ভাই যত্রতত্র সড়কের উপর বাস দাড় করিয়ে যাত্রী ওঠা নামানো করায় আমরা ঠিকমত চলাচল করতে পারি না।’
আমতলী উপজেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: হাসান মৃধা জানান, ‘বাস স্টান্ড না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে সড়কের উপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা নামা করাই। এতে আমাদেরও সমস্যা হয়। যানযটে সময় নষ্ট হয়। আমরা চাই দ্রুত আমতলীতে একটা বাস স্টান্ড নির্মান করা হউক।’
আমতলী-কুয়াকাটা-বরিশাল রুটের বাস চালক মো: করিম হাওলাদার বলেন, ‘আমতলীতে কোন বাস টার্মিনাল না থাকায় নিরুপায় হয়ে আমরা মহাসড়কের উপর বাস দাড় করিয়ে যাত্রী উঠাই এবং নামাই ফলে সড়কে যানজট দেখা দেয়। এতে আমাদেরও সমস্যা হয়।’
বরগুনা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাবুদ্দীন সাবু বলেন, ‘আমতলী মহাসড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ন এবং ব্যস্ততম মহাসড়ক। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী নিয়ে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন শতাধিক বাস ট্রাক, মাইক্রো ও প্রাইভেট কার চলাচল করে। ফলে আমতলীতে কোন বাস স্টান্ড না থাকায় সবচেয়ে সমস্যায় আছেন কয়েকশ’ বাস শ্রমিক। কারন এদের জন্যে কোন টয়লেট অথবা বাথরুমের ব্যবস্থা নাই। ফলে প্রসাব, পায়খানা, গোসল করার কোন ব্যবস্থাও নাই ৫ সহাশ্রাধিক পরিবহন শ্রমিকের। তাই আমতলীতে দ্রুত একটি বাস স্টান্ড নির্মানের দাবী এ শ্রমিক নেতার।’
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেন নজরুল স্মৃতি সংসদ-এনএসএস। এনএসএস এর নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পান্না জানান, ‘আমতলীতে স্থায়ী বাস টার্মিনাল না থাকায় সড়কের উপর বাস দাড় করিয়ে যাত্রী ওঠা নামা করায় একদিকে যানজটের সুষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে দুরপাল্লার বাসগুলো দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি বাস টার্মিনাল স্থাপন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সরোয়ার হোসেন জানান,‘আমতলী একটি গুরুত্বপূর্ন উপজেলা। এই উপজেলা উপর দিয়ে বয়ে গেছে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক। ফলে প্রতিদিন আমতলী হয়ে শত শত বাস ট্রাক চলাচল করে। বাস ট্রাক পার্কিং এবং যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমতলীতে একটি বাস টার্মিনাল স্থাপন করা প্রয়োজন।’
আমতলী পৌরসভার মেয়র মো. মতিয়ার রহমান জানান, ‘আমতলীতে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল স্থাপনের জন্য পৌরসভার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস টার্মিনাল স্থাপনের জন্য পৌরসভার কোন জমি নেই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি পাওয়া গেলে দাতা সংস্থার মাধ্যমে বাস টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আর্থিক ব্যবস্থা করা যাবে। ইতোমধ্যে আমি বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে জমি চেয়েছি। জমি পাওয়া গেলে দ্রুত বাস টার্মিনাল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।’
বরগুনার জেলা প্রশাসক মো: মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমতলী পৌরসভার মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থপান করা প্রয়োজন। মেয়র উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here