বাচসাস নির্বাচন ২৬ জুলাই, পাল্টে দেয়ার অঙ্গীকারে দুই প্যানেলের লড়াই

বিনোদন ডেস্ক:চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৬ জুলাই। জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক আলিমুজ্জামান।

বাচসাসের ২০১৯-২০২১ মেয়াদের এ নির্বাচনে ফাল্গুনী হামিদ ও হামিদ মোহাম্মদ জসীমের নেতৃত্বে একটি প্যানেল এবং সৈকত সালাউদ্দিন ও কামরুজ্জামান বাবুর নেতৃত্বে অপর একটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রাথী রয়েছেন বেশ কজন। নির্বাচনে মোট ভোটার ৫৩৯ জন। এরই মধ্যে জমে ওঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হননি টানা দুই মেয়াদ ধরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান।

দেশে সাংবাদিকদের সবচেয়ে পুরনো এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। ওই সময় সংগঠনের নাম ছিল ‘পাকিস্তান চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি’। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নাম পরিবর্তন করে হয় ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি’, সংক্ষেপে ‘বাচসাস’। চলচ্চিত্রের সোনালী সময়ে বাচসাস চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে সংগঠন ১৯৭২-৭৩ সাল থেকে প্রবর্তন করে বাচসাস পুরস্কার। আশির দশক পর্যন্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের চেয়েও বাচসাস পুরস্কার মর্যাদায় ছিল অনন্য।

নব্বুই দশকে চলচ্চিত্রের অধঃপতন শুরু হলে বাচসাসের কার্যক্রমও ক্রমশই ম্রিয়মান হয়ে পড়ে। বাণিজ্যের অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে ওঠে বাচসাস পুরস্কার। দায়িত্বহীন নেতৃত্বের কারণে বিনোদন সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও বাচসাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অর্ধশত বছরের পুরানো এ সংগঠনটির কোনো স্থায়ী কার্যালয় গড়ে তুলতে পারেননি বলে বাচসাসের পূর্ববর্তী নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ সংগঠনের সিংহভাগ সদস্য। বিভিন্ন বিটের সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো পেশাগত ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করলেও অদূরদর্শী নেতৃত্ব বাচসাসকে একটি নামসর্বস্ব সংগঠনে রূপান্তরিত করেছে বলেও সমালোচনা শোনা যায়।

এবার অবশ্য পরিবর্তিত সময়ের পাল্টানো প্রজন্ম বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাাচনে নেমেছে। ফাল্গুনী-জসিম প্যানেল এবং সৈকত-বাবু (লাল-সবুজ) প্যানেল আলাদাভা্বে প্রকাশ করেছে নিজেদের মিশন-ভিশন। বিনোদন সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন এবং সদস্যদের স্বার্থরক্ষায় দুই প্যানেলের নানা পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার আশাবাদী করে তুলেছে ভোটারদের। অবশ্য কেউ কেউ এসব অঙ্গীকারকে নির্বাচনের আগে গালভরা বুলি উল্লেখ করে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তবুও সবমিলিয়ে এবারের নির্বাচন নিয়ে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দিপনা তৈরি হয়েছে বাচসাস সদস্যদের মাঝে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here