আমলারাই এ সরকার টিকিয়ে রেখেছে -বরিশালে ফখরুল

এম. কে. রানা, নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্তমান সরকার এ দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করেছে। আমলারাই এ সরকার টিকিয়ে রেখেছে। তাই আমলাদের খুশি করতে বছর বছর বেতন বৃদ্ধি করলেও সাধারণ মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখন ঘুরে দাঁড়াতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের নতুন আন্দোলনের সূচনা আজ বরিশাল থেকেই শুরু। মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়েছে। যে মামলার কোনো ভিত্তি নেই। এদেশের মানুষ অবিলম্বে তার মুক্তি চায়। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় বরিশাল নগরউর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরশাদ সরকারের আমলে এদেশের গণতন্ত্র নষ্ট করা হয়েছে। সেই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরাই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আজ আওয়ামী লীগ তাদের পাশেই রয়েছে। অথচ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে বন্দি ছিলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ করে গেছেন, সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের জন্য ভেবেছেন, কাজ করেছেন আজ তিনিই জেলে রয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে যে তাব চালিয়েছে তা নজিরবিহীন। এই সময়ে আমাদের কত নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন, গুম হয়েছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা অপেক্ষায় রয়েছেন যে ফিরে আসবে হয়তো। কিন্তু সেই স্বামী, বাবা কিংবা সন্তান তো আর ফিরে আসে না। রাষ্ট্র আজ বসবাসের অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে।মির্জা ফকরুল বলেন, সরকার বিচার বিভাগে আজ হস্তক্ষেপ করছে। পুলিশ প্রশাসনকে পকেটে পুরে রেখেছে। লুকোচুরি ও কারসাজির মধ্য দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে আওয়ামী লীগ। দেশে আজ শিশু থেকে শতবর্ষী নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। খবরের কাগজ খুললেই হত্যা আর হত্যার সংবাদ। আদালতেও কেউ নিরাপদ নয়, বিচারকের সামনেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজেটে জনগণের পকেট কাটা ছাড়া আর কিছুই নেই। যেখানে কৃষকেরা ধানের মূল্য পায় না, অথচ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।

‘দুদকের একজন কর্মকর্তা নাকি বলেছেন, সরল মনে ঘুষ খেলে সেটা জায়েজ কিন্তু যিনি দুর্নীতি করেননি তিনি কেন কারাগারে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আমরা ভোটের নির্বাচনে বিশ্বাসী। ক্ষমতাসীনদের বলবো জনগণের মধ্য দিয়ে যে ভাষা উচ্চারিত হচ্ছে তা চোখের মধ্য দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর অব. শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-বীরবিক্রম, এয়ারভাইচ মার্শাল অব. আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুছুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু।এদিকে সমাবেশকে ঘিরে নগরজুরে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here